বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

চট্টগ্রামের শিল্প কারখানা রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে

বিশেষ প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের শিল্প কারখানা দিন দিন ধ্বংসের বা অবনতির দিকে যাওয়ার একমাত্র কারন হচ্ছে, এখানে তেলবাজ, পা-চাঁটা কিছু (Some flatterers) বহিরাগত চাকুরিজীবী, যারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় আন্ডার মেট্রিক বা অষ্টম শ্রেনীপাস (!) কিন্তু মোসাহেব শ্রেণীভূক্ত এসব ব্যক্তি/গোষ্ঠী কর্তৃক বিভিন্ন কৌশলে মালিকের পা চেঁটে বা উপরের কর্তা ব্যক্তিদের পা চেঁটে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে বসে থাকা’দের জন্য গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের (৬০/৭০ হাজার টাকা) বেতনও।

অপরদিকে তাদের অধীনে চাকুরি করতে হচ্ছে সদ্য অনার্স-মাস্টার্স পাস করা মেধাবী দের। যাদের বেতনও নির্ধারণ করে দেন আবাার ঐসব অষ্টম শ্রেনী পাশ চাটুকার’রা। তারা একশ্রেণীর অসাধুতায় প্রোথিত হয়ে আঞ্চলিকভাবে কুক্ষিগত করে রাখার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে। ফলশ্রুতিতে ঐসব শিল্প কারখানায় আভ্যন্তরীণ কোন সমস্যা হলে মালিক পক্ষকে ঠেকানোর জন্য মূহুর্তে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে শিল্প কারখানায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, শিল্প কারখানা বন্ধ করে রাখার মতো জঘন্য কাজটা করতেও যার পর নাই তৎপরতায় লিপ্ত থাকতে দেখা যায় তাদেরই। কারখানার ভিতর-বাহির দ্বিমূখী চরিত্রে লিপ্ত থেকে, ভিন্ন অবস্থানে অভিন্ন সূরে প্রেক্ষাপট তৈরীতে একেঅপরের খয়ের খাঁ হয়ে অদৃশ্য কূশীলব চরিত্রে আবর্তিত হতে পরিলক্ষিত হয় এসব শ্রেণী ভূক্ত প্রেতাত্মা দের (!) এক ও অভিন্ন রুপে মূহুর্তে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ভৌত শ্রেণীর কূট কৌশল মান্যবর শিল্প মালিক গণ’কে অনেকটা অদৃশ্য জিম্মিদশায় প্রোথিত করার পাঁয়তারায় সফলকাম হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যার প্রভাবে শিল্প-কারখানা গুলো উন্নতির দিকে ধাবিত হতে পারছেন না।

এখন এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে এসে চট্টগ্রামের শিল্প কারখানা গুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করতে হলে, প্রথমেই জিম্মি দশা’র জন্য দায়ী, ঐসব মোসাহেব’দের স্থলাভিষিক্ত করতে হবে, নবাগত উচ্চ শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের। এক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার দোহাই দিয়ে নাটকীয় পঙ্থীমালা’র বিদায় বৈ অন্যথা শুধুই অরণ্যে রোদন বলেই আপাত: বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। হাল-যামানায় সর্বক্ষেত্রে নবাগত দের উচ্চাভিলাসী সফলতার স্বাক্ষরতা’ই যদি প্রমাণিত হয়, তো শিল্প-কারখানা পরিচালনার দায়িত্ব মেধাবী দেশ প্রেমিকদের হাতে তুলে দেয়াই শ্রেয় বলে মনে হয়। কেননা, মোসাহেব দের তুলনায় এখানে নবাগত’দের অনেক কম খরচে নিয়োগ দেয়া যেমন সম্ভব, তেমনি বাস্তবভিত্তিক উদ্দীপণায় কর্ম-পরিকল্পণার সাথে সাথে মেধার বিকাশ ঘটতে পারে নবাগত দের।

এই পন্থা যদি চট্টগ্রামের শিল্প মালিকরা গ্রহণ করেন, তাহলে একদিকে প্রতিমাসে তুলনা মূলক অর্ধেক খরচে মেধা, শ্রম ও দক্ষতা কে কাজে লাগিয়ে লাভবান হতে পারেন সম্মাণিত মালিক পক্ষ, অপরদিকে ধীরলয়ে জন সস্পদে রূপান্তরিত হবে নবাগত উচ্চ শিক্ষিত মেধাবীরা। একই সাথে মেধাবীদের ভূত-প্রায়োগিক কৌশলে উন্নতির দিকে এগিয়ে যেতে থাকবে শিল্প কারখানা গুলো, আর এটাই বাস্তব সম্মত পন্থা বলে মনে হয়।

বেসরকারি শিল্প-কারখানায় দীর্ঘ দিন যুক্ত থাকার ফলে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা এখানে বলতে পারি যে, পূর্বোল্লিখিত মোসাহেব দের যেসব বিভিন্ন উচ্চতর ডিগ্রীর সনদ দিয়ে চাকুরি করছেন, সূত্রীয় অনুসন্ধানে তাদের বেশিরভাগ সার্টিফিকেট জাল বা একজনের সার্টিফিকেট আরেকজন (Proxy system) দিয়ে চাকুরি নিয়েছেন এমন গুরুতর অভিযোগও প্রমাণিত হওয়ার সম্ভাবনা বিদ্যমান।

এরকম হাজারো ভেজালের মধ্যে চলছে চট্টগ্রামের শিল্প-কারখানা গুলো। তাই, চট্টগ্রামের মান্যবর শিল্প-মালিক গণের এইসব বিষয় গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে আগামীর মসৃণ পথচলা সু-নিশ্চিত করতে ভাববার সময় উঁকি দিচ্ছে বলেই মনে হয়। সবচেয়ে বড় কথা এই যে, এ ব্যাপারে শুধু শিল্প-কারখানা মালিকপক্ষ নয়, সচেতন হওয়া চাই, চট্টগ্রামের শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের, চাই সুশীল প্রতিনিধিত্ব, সুশীল তথা মুক্ত চিন্তার মিডিয়া সম্পৃক্ততা, সংলগ্ন সকলের আন্তরিক, সুস্থ্য ও সুন্দর মানসিকতাপূর্ণ সহযোগীতা।

আপনার শিল্প কারখানা রাতারাতি লোকসান কাটিয়ে উঠে একটি সুুন্দর নিরাপদ লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত হউক। উদীয়মান মেধাবী দের ক্ষুরধার শৈল্পিকতার শিষ্টাচার এ পরিণত হউক শিল্পাঙ্গন। বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের শিকার মুক্ত হয়ে মুক্ত চিন্তার ঊণ্মেষ ঘটবে চলমান কারখানা গুলোয়। চালু হতে থাকবে কূশীলব দের থাবায় বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা গুলো, এটাই প্রত্যাশা। জয় হোক মানবতার।

মো: হাসানুর জামান বাবু, কলাম লেখক, সমাজ কর্মী।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত