বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

চবিতে ভিসি ও প্রো-ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অনড় শিক্ষক সমিতি

চবি প্রতিনিধি : 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দের পদত্যাগের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর)দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধু চত্ত্বরে অবস্থান নেয় শিক্ষক সমিতি। এদিকে একই দিন বেলা সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্ত্বরে শিক্ষক সমিতির উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছে প্রসাশনপন্থী শিক্ষকবৃন্দ।

অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে হলুদ দলের স্টান্ডিং কমিটির সদস্য ড. আলি আজগর চৌধুরী বলেন, আমাদের ভিসি ও প্রো-ভিসি আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী দাবি করেন। কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড কেমন আপনারা তা লক্ষ্য করছেন। আজ প্রথম আলোর সম্পাদকীয়তে আইন ও বাংলা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ ও মেরিন সায়েন্সর ভবনের উদ্বোধনের খরচের বিষয়ে তদন্তের দাবি উত্থান করা হয়েছে ।

তিনি আরও বলেন, তাদের এমন কর্মকাণ্ডের জন্য স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন করছেন। তারা বলছেন এসব খরচের টাকা উপর মহলেও দিতে হয়ে ৷ সরকার ও শিক্ষামন্ত্রীর ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য এনাদের পদত্যাগ করা উচিৎ।


কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, আমি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না কিন্তু আমি বিশ্ববিদ্যালয়কে ধারণ করি। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না কেন এখানকার ছাত্ররা চুপ করে আছে? কেন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধঃপতনে রুখে দাড়াচ্ছে না? তারা কী বিশ্ববিদ্যালয়কে ধারণ করে না? আজ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান কমে যায় তাহলে আপনাদেরও মান কমে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন অনিয়মের কারণে প্রধানমন্ত্রীর অর্জন ক্ষুন্ন হচ্ছে। আপনি ক্ষমতায় দম্ভ দেখাবেন না প্রধানমন্ত্রী অনেক এমপি মেয়রকে হিরো থেকে জিরো বানিয়েছেন। সুতরাং সংশোধন হয়ে যান।

ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের বিভাগের সভাপতি রবিউল হক বলেন, কয়েক বছর আগেও সারা বাংলাদেশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কে যেভাবে দেখা হত এখন তা হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জনগুলো ম্লান হয়ে যাচ্ছে। আজ আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দুর্নীতি প্রশাসনের বিরুদ্ধে দাড়িয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুস্থ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ চাই । আমরা এ চাওয়া পূরণে আন্দোলন অব্যাহত রাখবো।

এদিকে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রকিবা নবী বলেন, শিক্ষক সমিতি শিক্ষকদের স্বার্থ নিয়ে ঠিকভাবে কাজ করে না। বরং তারা শুধু প্রশাসনের ভুল ধরতে ব্যস্ত, ক্ষমতায় যেতে ব্যস্ত। শিক্ষক সমিতি তাদের দায়িত্ব বাদ দিয়ে নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে কোনো আইনের লঙ্ঘন হয়নি। আইন মোতাবেক সকল নিয়ম মেনে এটার বোর্ড আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু, একটি ন্যায় ও ন্যায্য নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করতে শিক্ষক সমিতির একাংশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। এটা খুবই লজ্জাজনক।


সমাবেশে পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক শ্যামল রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, শিক্ষক সমিতি উপাচার্যের পদত্যাগ চায়। কিছু ভিত্তিহীন দাবি নিয়ে তারা আজ প্রশাসন ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে চায়।

প্রতিবাদ সমাবেশে প্রশাসনপন্থী শিক্ষকরা দাবি করেন যে, বাংলা ও আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড আয়োজনে বাঁধা দিয়ে শিক্ষক সমিতির একাংশ উপাচার্যের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। তারা উপাচার্যকে তোপের মুখে ফেলেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সবকিছু যখন স্থিতিশীল তখন শিক্ষক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অমান্য করে উপাচার্যের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে তার প্রতি অপমানজনক, বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ করেছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল উপাচার্যের কার্যালয় দখল করবে, যা কখনোই কাম্য নয়। তাদের দাবি পূরণে বিশ্ববিদ্যালয়ে সবকিছুর জন্যই আলাদা আলাদা পর্ষদ আছে। চবি প্রশাসন আইন মেনেই সকল নিয়োগ বোর্ড আয়োজন করেছে বলে মানববন্ধনে দাবি করা হয়।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত