শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Single Top Banner

বাংলাদেশে যেন আর কখনো কোনো অভ্যুত্থানের প্রয়োজন না হয় এই অঙ্গীকারেই গণভোট : প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য গঠন) মনির হায়দার বলেছেন, বাংলাদেশে যেন আর কখনো কোনো অভ্যুত্থানের প্রয়োজন না হয় এই অঙ্গীকারই গণভোটের মূল লক্ষ্য। আর কোনো বাবা-মাকে যেন আর সন্তানের লাশ কাঁধে নিতে না হয়। এই পথ বন্ধ করার জন্যই গণভোটের উদ্যোগ।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন,এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌত আয়োজনে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা মূলক প্রচার – প্রচারণা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, গণভোট কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়। ১২ই ফেব্রুয়ারির গণভোট একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ফল। এটি কারও মাথা থেকে হঠাৎ চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা, মতবিনিময় এবং অভিজ্ঞ মহলের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই গণভোটের প্রশ্ন ও কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি কোনো দলীয় স্বার্থের বিষয় নয়; বরং রাষ্ট্রকে একটি টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক পথে নেওয়ার সম্মিলিত প্রয়াস। গণভোট মানে জনগণের কণ্ঠস্বরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। জনগণের সম্মতি ছাড়া রাষ্ট্রের মৌলিক প্রশ্নে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই এই গণভোট তারই প্রমাণ। তিনি বলেন, যারা গণভোটকে হঠাৎ সিদ্ধান্ত বলে প্রচার করছে, তারা হয় প্রক্রিয়াটি জানে না, নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। গণভোটের প্রতিটি ধাপ রাজনৈতিক ঐকমত্য ও বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে সাজানো হয়েছে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে গণভোটের বিষয়বস্তু অনেক মানুষের কাছেই এখনও পরিষ্কার নয় এমনকি শিক্ষিত ও জ্ঞানীগুণী মহলের মাঝেও বিভ্রান্তি রয়েছে। তাই গণভোটের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট নিজ নিজ নেটওয়ার্কে তুলে ধরার দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে।

মনির হায়দার আরো বলেন, আজ হয়তো আপনার সন্তান জীবন দেয়নি, কিন্তু আরেকজন পিতা-মাতা চিরদিনের জন্য তাদের সন্তানকে হারিয়েছেন। আবার যদি কোনো একদিন নতুন করে অভ্যুত্থানের প্রয়োজন হয়, তখন কি নিশ্চয়তা আছে যে সে দিন আপনার সন্তানকে জীবন দিতে হবে না? এই কঠিন প্রশ্নের নিষ্পত্তির জন্যই এই গণভোট।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আরো বলেন, এই ৫৪ বছরে কি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে উঠেছে? মানুষের মর্যাদা কি নিশ্চিত হয়েছে? রাষ্ট্র কি ইনসাফভিত্তিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে? বুকের ওপর হাত রেখে সৎভাবে উত্তর দিলে বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, মানুষের মর্যাদা কোনো দয়া নয় এটি জন্মগত অধিকার। অথচ রাষ্ট্রীয় কাঠামোতেই যখন অমর্যাদা ও বৈষম্য প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়, তখন সেই রাষ্ট্র তার জন্মঘোষণার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। এই বাস্তবতা সংশোধনের জন্যই গণভোট। এটি অতীতের ভুল শোধরানোর, ঐতিহাসিক সুযোগ।

মনির হায়দার আরো বলেন, গণভোট মানে সরকার বদল নয় গণভোট মানে রাষ্ট্রের দর্শন ঠিক করা। দল-মত নির্বিশেষে সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে। গণভোটের প্রশ্নটি রাজনীতির নয়, এটি জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তির প্রশ্ন, ইতিহাস আর ক্ষমা করবে না যদি এই সুযোগও হাতছাড়া করা হয়।

ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলামের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. ইয়াহইয়া আখতারের প্রধান পৃষ্ঠপোষকতায় মতবিনিময় সভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেনের বড় ভাই গোলাম কিবরিয়া, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শুভ হোসেন বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।

মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ- উপাচার্য প্রফেসর (প্রশাসন) ড. মো. কামাল উদ্দিন স্বাগত বক্তৃতা করেন, এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ- উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন।

মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং উপ- উপাচার্যসহ শিক্ষক শিক্ষার্থী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত