বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যান চলাচলের জন্য প্রস্তুত

নিজস্ব প্রতিবেদক :

শিগগিরই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে যুক্ত হচ্ছে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নামে নাম করণ করা নগরীর লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এখন দৃশ্যমান। তবে এ উড়াল সড়কে ওঠা-নামার জন্য ১৫টি র‌্যাম্প সংযুক্ত হবে। যার মধ্যে মাত্র দুটি র‌্যাম্প দৃশ্যমান। এটিতে গাড়ি চলাচল করলে দিতে হবে নির্ধারিত হারে টোল। তবে চলতে দেওয়া হবে না মোটরসাইকেল। এমনকি পায়ে হেঁটেও পার হতে পারবেনা কেউ। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৪ হাজার ৩৬৯ কোটি ৭ লাখ ১০ হাজার ৮১৯ টাকা।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা সী-বিচ পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এখন দৃশ্যমান। এটিতে ওঠানামার জন্য ১৫টি র‌্যাম্প থাকবে। এরমধ্যে আরও ১৩টি র‌্যাম্প নির্মাণাধীন। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে এটিতে যানবাহনের টোলের হার অনুমোদন দিয়েছে। কবে নাগাদ যানবাহন চলাচল শুরু হবে তা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ সড়কে সর্বোচ্চ গতিসীমা রাখা হয়েছে ৬০ কিলোমিটার। এখানে নিরাপত্তার জন্য বসানো হবে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে স্প্রিড ক্যামেরা। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ এই স্প্রিড ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করবে। নির্ধারিত গতির চেয়ে যারা কম বেশি চালাবে সেসব যানবাহনগুলোকে অটোমেটিক স্প্রিড ক্যামেরার মাধ্যমে জরিমানার আওতায় আনা হবে।’

সরেজমিন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দেখা গেছে, ‘চার লেনের দুটি সড়কের মধ্যে এক পাশ পুরোপুরি প্রস্তুত। আরেক পাশের কাজ কিছুটা বাকী আছে। বসানো হচ্ছে বৈদ্যুতিক পোল। যেখানে লাগানো হবে বাতি। এখনও শুরু হয়নি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং স্প্রিড ক্যামেরা লাগানোর কাজ। এরমধ্যেও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে সামান্য কিছু যানবাহন চলাচল করছে।

এদিকে, এ সড়কে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকার ঘোষণা দিয়েছে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।
তবে আনুষ্ঠানিকভাবে যানবাহন চলাচল শুরুর আগে থেকে এ উড়াল সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল করছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনই এ নিয়ম ভাংছে বলে অভিযোগ আছে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) সূত্র জানিয়েছে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয় দিয়ে চলাচল করলে কার ১০০ টাকা, জিপ ১০০টাকা, মাইক্রোবাস ১০০ টাকা, মিনিবাস ২০০ টাকা, বাস ৩০০ টাকা, ট্রাক (চার চাকা) ২০০টাকা করে টোল দিতে হবে। তবে উড়াল সড়কে চলবে না মোটের সাইকেল, ট্রাক (৬ চাকা) এবং কাভার্ড ভ্যান।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মাণ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন্ শামস্ বলেন, ‘শিগগিরই যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। বর্তমানে এটিতে পোল লাগানো হচ্ছে। চট্টগ্রাম নগরীতে যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। আগে যেখানে বহদ্দারহাট থেকে দুই-তিন ঘন্টায় পতেঙ্গা যাওয়া যেতো। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারনে মাত্র ২০ মিনিটে বহদ্দারহাট থেকে পতেঙ্গা যাওয়া যাবে। এটি চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।’

তিনি বলেন, ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচল করলে যানবাহনে নির্ধারিত হারে টোল দিতে হবে। এখানে টোল নেওয়ার জন্য ১৪টি টোল বুথ থাকবে। প্রাথমিকভাবে পতেঙ্গা প্রান্তে চারটি টোল বুথ থাকবে। র‌্যাম্প নির্মাণের পর বাকী টোল বুথ বসানো হবে। টেণ্ডারের মাধ্যমে এ টোল আদায়ের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে এখনো টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি।’

‘শুরুর দিকে চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ২৪টি র‌্যাম্প থাকার কথা থাকলেও এখন হবে ১৫টি। বর্তমানে দুটি র‌্যাম্প নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। বাকী র‌্যাম্পের কাজ উদ্বোধনের পর নির্মাণে কাজ শুরু হবে।’

সিডিএ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ১১ জুলাই একনেক সভায় চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। প্রথমে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় তিন হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। তিন বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শতভাগ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।

দ্বিতীয় দফায় ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তৃতীয় দফায় ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। এই দফায় সময় বেড়েছে এক বছর। অর্থাৎ ২০২৩ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা। একই সময়ে প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় বাড়িয়ে ৪ হাজার ৩৬৯ কোটি ৭ লাখ ১০ হাজার ৮১৯ টাকা করা হয়। সিডিএ’র এই প্রকল্প যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স-র‍্যাংকিন।

প্রায় ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের, ৫৪ ফুট প্রশস্ত এবং চার লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে থাকবে ১৫টি র‌্যাম্প। এরমধ্যে জিইসি মোড়ে একটি, টাইগারপাসে দুটি, আগ্রাবাদে চারটি, ফকিরহাটে একটি, নিমতলায় দুটি, সিইপিজেডে দুটি, সিমেন্ট ক্রসিং মোড়ে একটি এবং কেইপিজেড এলাকায় দুটি র‌্যাম্প থাকবে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত