বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

চবিতে আয়োজিত হলো রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. হাসান মোহাম্মদ স্মারক বক্তৃতা

চবি প্রতিনিধি :

ইসলামের বিশ্বায়ন, বাংলাদেশ ও আমাদের জাতিসত্তা শীর্ষক বিষয়কে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আয়োজিত হয়েছে ‘রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. হাসান মোহাম্মদ স্মারক বক্তৃতা ২০২৫।’

সোমবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০ টায় রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ. জি. এম. নিয়াজ উদ্দিনের সঞ্চালনায় ও বিভাগটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজের সভাপতিত্বে এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এনায়েত উল্যা পাওয়ারী।

অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক, চিন্তক ও গবেষক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড.মো. কামাল উদ্দিন। প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ভূঁইয়া মনোয়ার কবির, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আমির মোহাম্মদ নসরুল্লাহ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ফুয়াদ হাসান।

স্মারক বক্তা মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ ইসলামের বিস্তার শুধুমাত্র ধর্মীয় চেতনা নয়, বরং এটি ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক সামাজিক বিপ্লব। ইসলামের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ক্রুসেড যুদ্ধ ছিল পাশ্চাত্যের প্রতিক্রিয়া, আর ইসলাম এসেছে মুক্তির বার্তা নিয়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে ইসলামের আগমন কোনো হঠাৎ ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস ও আরবদের সঙ্গে প্রাচীন যোগাযোগের ভিত্তি। সপ্তম শতাব্দীর শুরুতেই, অর্থাৎ শশাঙ্ক থেকে মাৎস্যন্যায়ের সময়কালেই আরব বণিক ও সুফিদের মাধ্যমে এ অঞ্চলে ইসলামের প্রাথমিক সংযোগ ঘটে। এরপর আব্বাসীয় যুগ,পাল আমল, সেন শাসন পেরিয়ে ১২০৪ সালে বাংলাদেশে মুসলিম শাসনের সূচনা হয়।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, ‘ ইসলামের বিশ্বায়ন বলতে বোঝায়—ইসলামের সংস্কৃতি, আদর্শ ও মূল্যবোধকে বিশ্বব্যাপী প্রচার ও প্রসার করা। আমরা যদি ইসলামের মূলনীতি ও দর্শনকে আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, তাহলে আগে প্রমাণ করতে হবে যে ইসলামী অর্থনীতি, সমাজনীতি, দর্শন ও সংস্কৃতির দৃষ্টিভঙ্গি অন্য সব দৃষ্টিভঙ্গির তুলনায় শ্রেষ্ঠ, কার্যকর ও মানবকল্যাণে সহায়ক। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আজকের মুসলমানরা নিজেরাই ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও আদর্শ যথাযথভাবে অনুসরণ করছেন না।

তিনি আরও বলেন, ‘ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ইসলামের বিজয় কখনোই তরবারির মাধ্যমে হয়নি। ইসলামের বিজয় হয়েছে আদর্শ, ন্যায়নীতি ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে। সেই আদর্শিক শক্তিই ইসলামকে যুগে যুগে বিজয়ী করেছে।’

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত