বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

পুতিন-জেলেনস্কিকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পরিকল্পনা

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ

ডেস্ক রিপোর্ট :

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, শুধু অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়, বরং একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তিই তাঁর লক্ষ্য। এজন্য তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে নিয়ে আগামী শুক্রবার ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন।

গত শুক্রবার আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পর এটিই দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠককে ট্রাম্প ‘উষ্ণ’ এবং পুতিন ‘খোলামেলা ও ফলপ্রসূ’ আখ্যা দেন। পরে ট্রাম্প ফোনে জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেন।

সূত্রমতে, আলাস্কা বৈঠকে পুতিন ফ্রন্টলাইনে লড়াই থামানোর প্রস্তাব দেন, তবে শর্ত রাখেন—ইউক্রেনকে পুরো দনবাস অঞ্চল ছাড়তে হবে। জেলেনস্কি এ প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জানান, দোনেৎস্কসহ কৌশলগত শহরগুলো ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার জন্য অপরিহার্য।

ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ লিখেছেন, “যুদ্ধ শেষ করার সর্বোত্তম পথ হলো সরাসরি শান্তিচুক্তি, শুধু যুদ্ধবিরতি নয়।” ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জেলেনস্কিকে উদ্দেশ করে বলেন, “তোমাকে সমঝোতায় যেতে হবে। রাশিয়া বড় শক্তি, আর তোমরা তা নও।”

অন্যদিকে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি ছাড়া আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাঁর ভাষায়, “হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করাই প্রথম শর্ত।” আজ হোয়াইট হাউসে তাঁর সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েকজন ইউরোপীয় নেতাও সেখানে যোগ দেবেন।

পুতিন আগের মতোই শান্তিচুক্তির জন্য শর্তগুলো পুনর্ব্যক্ত করেছেন—ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ ত্যাগ, সেনাবাহিনী ছোট করা এবং রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলগুলো (ক্রিমিয়া, দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন, জাপোরিঝিয়া) রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। তবে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সংবিধান পরিবর্তন না করে তিনি কোনো ভূখণ্ড ছাড়বেন না।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক রাশিয়ার জন্য কূটনৈতিক সাফল্য। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পশ্চিমা বিশ্বে পুতিনকে একঘরে করা হলেও এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর সরাসরি আলোচনাকে মস্কোর মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তারা বলছে, কোনো সমঝোতাই যেন ইউক্রেনের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বা ন্যাটো সদস্যপদ অর্জনের পথে বাধা না হয়।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত