বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেছেন, “জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি ছাড়া জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করলে কাংখিত গণতন্ত্র স্থায়ী হবে না। জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংসদ নির্বাচন হলে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবে। অন্যথায় যে দলই পেশীশক্তির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসবে, তারা পুনরায় স্বৈরাচারী প্রবণতায় উদ্বুদ্ধ হবে।”
তিনি মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর বিআইএ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ জেলা জামায়াতের মাসিক কর্মপরিষদ বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল্লাহ ও ড. হেলাল উদ্দিন মুহাম্মদ নোমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাকারিয়া, অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, এডভোকেট মোহাম্মদ নাছের, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মাহমদুল হাসান, মুহাম্মদ নুরুল হোসাইনসহ কর্মপরিষদ সদস্যরা।
সভায় জেলা আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী আরও বলেন, নির্বাচনের আগে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানানো হলেও জনগণের কাছে এর স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হচ্ছে। তাই দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের আরও যত্নবান হতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও সরকার সে বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সম্প্রতি ডাকসু নির্বাচনে বড় দল হিসেবে যেভাবে বিভিন্ন নির্বাচনী কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে তা দুঃখজনক। জাতীয় নির্বাচনেও যদি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হয়, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, নৈতিক মান উন্নয়নের দাবি জানানো হলেও প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে ধর্মীয় শিক্ষক না দিয়ে বরং নৃত্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে যাচ্ছে। তাই অবিলম্বে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান তিনি। এছাড়া উপজেলা ভিত্তিক এসিল্যান্ডের মাধ্যমে বিএস সংশোধনীর ব্যবস্থা বন্ধ করে জনজীবনে ভোগান্তি তৈরি করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জামায়াতের প্রার্থীদের জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, “সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালীর মতো অন্যান্য উপজেলাতেও প্রার্থীসহ সকল দায়িত্বশীলদের জনগণের কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। তৃণমূলের কর্মীদের ডাকে জীবনবাজি রেখে হলেও যথাযথ সাড়া দিতে হবে।”


