বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

১৭ নারীকে বিয়ে করা বন কর্মকর্তা কবির হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নানা প্রলোভন দেখিয়ে একে একে ১৭ নারীকে বিয়ে করে তুমুল আলোচনার সৃষ্টি করা বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কবির হোসেন পাটোয়ারির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল মেট্রোপলিটন আমলি আদালতে নালিশি মামলা করা হয়। বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হাফিজ আহমেদ বাবলু স্ব-প্রণোদিত হয়ে মামলাটি করেন।

আদালতের বিচারক সাদিক আহম্মেদ মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আগামী ২০ নভেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

১৭ বিয়ে করা বন কর্মকর্তা

মামলার বাদী রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাফিজ আহমেদ বাবলু বলেন, বিদেশে পড়াশোনা করানো, সরকারি চাকরি দেওয়া, সম্পত্তি হস্তান্তর এবং বিমানবালা পদে কাজের প্রলোভনে প্রতারণা করে আসছিলেন চাঁদপুরের মতলব উপজেলার বাসিন্দা বন কর্মকর্তা কবির হোসেন। তিনি আরও বলেন, ঢাকা, খুলনা, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় কর্মরত থাকাকালে একে একে ১৭টি বিয়ে করেছেন কবির। প্রতিটি বিয়ের ক্ষেত্রে মুসলিম পরিবার আইনের ১৯৬১ সালের ৬ ধারার বিধান লঙ্ঘন করে তিনি অপরাধ সংঘটিত করেছেন। প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন রেখে একাধিক বিয়ে করে ধর্মীয় মূল্যবোধ, দেশীয় সংস্কৃতি এবং সমাজ ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে ভুক্তভোগী নারীরা মানববন্ধন করে তার বিচার দাবি করেছেন। বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কবির হোসেন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও। গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত টিম বরিশাল নগরীর কাশিপুর বন সংরক্ষক কার্যালয়ে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চালায়। একই সময় কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায় ভুক্তভোগীরা।

মানববন্ধনে ঢাকার নাজনিন আক্তার শীলা, নারায়ণগঞ্জের সোনিয়া, খুলনার নাসরিন আক্তার দোলনসহ ১৭ নারী নিজেদের প্রতারণার শিকার বলে অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, কবির বিভিন্ন প্রলোভনে বিয়ে করে পরবর্তীতে প্রতারণার আশ্রয় নেন।

সবশেষ চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি খুলনার চাকরিজীবী খাদিজা আক্তারকে বিয়ে করেন কবির। বিয়ের দ্বিতীয় দিনেই স্ত্রীকে বাবার বাড়ির অংশ লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেন তিনি। লিখে না দেওয়ায় খাদিজাকে বন বিভাগের সরকারি কোয়ার্টার থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী নারীরা বলেছেন, কবির হোসেনকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়বে। মামলা ও তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত