বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

লোহাগাড়ায় ১১১ মণ্ডপে হবে শারদীয় দুর্গাপূজা

লোহাগাড়া প্রতিনিধি :

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ও প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা। এবার লোহাগাড়ায় ১১১ টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও পূজা উপলক্ষ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এবার দেবী দুর্গা মর্ত্যলোকে আসছেন গজে অর্থাৎ হাতির পিঠে করে। যা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। হাতির পিঠে দেবীর আগমন সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বয়ে আনে এবং বসুন্ধরা শস্য শ্যামলা হয়ে ওঠে। আর দোলা বা পালকিতে চড়ে দেবলোকে ফিরে যাবেন। তবে দোলা বা পালকিকে অশুভ প্রতীক হিসেবে দেখা হয় যা মহামারী বা মড়ক নির্দেশ করে। অর্থাৎ এবছর দেবীর আগমন শুভ হলেও বিদায়কালে কিছু অশুভ ঘটনার ইঙ্গিত থাকতে পারে।

সরেজমিনে পূজামণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, শেষ মহুর্ত্বে চলছে প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততা। তুলির আঁচড়ে রাঙ্গিয়ে তুলছেন প্রতিমাকে। ইতিমধ্যে সকল পূজামন্ডপ পূজার জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এবছর লোহাগাড়ায় ৭২ টি প্রতিমা পূজা ও ৩৯ টি ঘটপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে প্রত্যেক পূজামণ্ডপের জন্য সরকারি বরাদ্দ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে । ইতিমধ্যে পূজা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ।

জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসের তত্বাবধানে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা( পিআইও) অফিসে প্রত্যেক পূজামণ্ডপ কমিটির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদককে পূজার সরকারি বরাদ্দের টাকা বিতরণ করা হবে।

এদিকে, জাঁকজমকপূর্ণ পূজার আয়ােজনে খুবই ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়ােজকরা। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমাগুলাে সারিবদ্ধভাবে সাজানাের কাজ চলছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর রবিবার থেকেই শারদীয় দুর্গোৎসবের ঢােলের বাজনা, উলুধ্বনি আর আরতিতে মুখরিত হবে পূজামণ্ডপ ও পাড়া-মহল্লা। পূজায় পুলিশসহ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।
উৎসবকে পরিপূর্ণ রূপ দিতে মন্দিরগুলােতে চলছে ব্যাপক সাজসজ্জা।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের লোহাগাড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বাবলু শংকর নাথ বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এই শ্লোগানকে ধারণ করে সবাইকে নিয়ে এবং সকল ধরনের শৃংখলা বজায় রেখে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা কমিটির পক্ষ থেকে প্রত্যেকটা পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করা হবে এবং সার্বক্ষণিক যেকোন ধরনের সহযােগীতা করা হবে।

উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মৃণাল দাশ মিলন মেম্বার বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে প্রতি বছরের মতো এবছরও লােহাগাড়ায় ১১১ টি মণ্ডপে ব্যাপক সাড়ম্বরে দূর্গোৎসব উদযাপিত হবে। ইতিমধ্যেই প্রত্যেক পূজামন্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক হয়েছে। তাছাড়া চট্টগ্রাম ডিসি অফিস,জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,থানা পুলিশ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পূজা মণ্ডপের জন্য আর্থিক অনুদানও বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ লোহাগাড়া উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ সুনীল কুমার চৌধুরী প্রকাশ সুনীল বিএসসি বলেন, দুর্গা পূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুষ্টান হলেও অন্য সম্প্রদায়ের লোকজনও এই উৎসবে সামিল হন। দেশের অন্যান্য জায়গার তুলনায় লোহাগাড়া একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির এলাকা। এখানে সব ধর্মের মানুষ বিভিন্ন পূজা-পার্বন ও ঈদসহ নানা আয়োজন মিলেমিশে উদযাপন করি। এবারের দুর্গা পূজাও যাতে ঝাঁকজমকভাবে অনুষ্টিত হয় সে লক্ষে প্রশাসনকে সবধরনের সহায়তা করা হবে। আশাকরি এবারের দুর্গা পূজাও আড়ম্বরপূর্ণভাবে অনুষ্টিত হবে।

লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন,শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে ৫ স্তরের নিরাপত্তা দেয়া হবে।বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী প্রতিটি পূজা মন্ডপে দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযােগীতা অব্যাহত থাকবে। প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক বাহীনির সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা নিয়ােজিত থাকবে। যেকোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সর্বদা সতর্ক দৃষ্টি রাখা হবে। শান্তিপুর্ণভাবে পূজা উদযাপনে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি পূজা মন্ডপে পােশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পােশাকেও পুলিশ মােতায়েন করা হবে।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পূজার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা মণ্ডপে গিয়ে পূজা দেখতে পারে এ ব্যাপারে কঠোর নিরাপত্তা দেওয়া হবে। আশা করি কোন ধরনের সমস্যা ছাড়া সকলের অংশগ্রহণে পুরাে উপজেলায় উৎসবমূখর পরিবেশে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গাপূজা এবং ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত