বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

চট্টগ্রামে ১৯০৬ মণ্ডপে এবার দুর্গাপূজা, চলছে প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি এখন পুরোদমে চলছে। নগর ও জেলায় মোট ১ হাজার ৯০৬টি মণ্ডপে এবার দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিমা তৈরি, প্যান্ডেল নির্মাণ আর সাজসজ্জার ব্যস্ততায় সরগরম হয়ে উঠেছে নগরী। শিল্পীরা প্রতিমায় দিচ্ছেন শেষ আঁচড়, মূর্ত হয়ে উঠছে দেবী দুর্গার রূপ। কোনো কোনো মণ্ডপে প্রতিমা বসানোও শুরু হয়ে গেছে। পূজাকে ঘিরে নগরের বাজার ও শপিংমলগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়।

রোববার শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী পক্ষের সূচনা হয়েছে। মহালয়ার চণ্ডীপাঠ, মঙ্গলঘট স্থাপন, ঢাক-কাঁসা ও শঙ্খ বাজনার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে আহ্বান জানানো হয়। এর মাধ্যমে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল আয়োজন।

চট্টগ্রাম জেলায় এবার সর্বজনীন পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬১৪টিতে, যা গত বছরের চেয়ে ১৯টি বেশি। অন্যদিকে মহানগরে ২৯২টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা উদযাপনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নানা প্রস্তুতি নিয়েছে। অধিকাংশ মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে।

প্রতিমাশিল্পীরা জানালেন, আষাঢ় থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হলেও এখন চলছে শেষ মুহূর্তের রঙ ও সাজসজ্জা। কেউ প্রতিমায় তুলির আঁচড় দিচ্ছেন, আবার কেউ প্রতিমায় গহনা ও শাড়ি পরাচ্ছেন। সদরঘাট, দেওয়ানজীপুকুর পাড়, হাজারী লেন, নটরাজ শিল্পালয়সহ বিভিন্ন প্রতিমা কারখানায় ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। একেকটি প্রতিমার দাম পড়ছে ২৫ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। শুধু চট্টগ্রাম নয়, আশপাশের জেলাতেও এসব প্রতিমার চাহিদা রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুপ্রিয় মজুমদার দোলন জানান, এবার পূজা উৎসবের আমেজ অন্য বছরের তুলনায় আরও বেশি হবে। মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ বলেন, নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে পূজা সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে।

শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ বলেন, মণ্ডপে সিসিটিভি, স্বেচ্ছাসেবক ও মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোও সহযোগিতা করছে। ফলে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও পূজাকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ—এই ভাগে মোট ১ হাজার ৪৪০টি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। বাকি মণ্ডপগুলোতেও কঠোর নজরদারি থাকবে। পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে ১৭ দফা নির্দেশনা।

আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত