চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ¦ শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে সেই কুচক্রি মহল। প্রতিবারই জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে এলে সক্রিয় হয়ে উঠে চক্রটি। এরই ধারাবাহিকতায় এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চক্রটি এবার আটঘাট বেঁধে নেমেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক প্যানেল স্পিকার আলহাজ¦ শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা অপপ্রচারের পাশাপাশি কিছু কিছু সংবাদ মাধ্যমেও ছড়ানো হচ্ছে মনগড়া ভুয়া তথ্য। তবে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার মাটি ও মানুষের জনপ্রিয় নেতা শাহজাহান চৌধুরী এসব অপপ্রচার ডিঙিয়ে প্রতিদিনই সকাল থেকে রাত অবদি এলাকায় জনসংযোগ, সভা-সমাবেশে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
লোহাগাড়া উপজেলার সত্তর বছর বয়সী বৃদ্ধা নুরুল আবছার বলেন, ‘শাহজাহান চৌধুরীর এলাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তার জনপ্রিয়তার কাছে অন্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থী আগামী জাতীয় নির্বাচনে পেরে উঠতে পারবে না। এটা জেনে পরিকিল্পতভাবে নানা মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসব অপপ্রচারেও শাহজাহান চৌধুরীকে নির্বাচনে হারানো যাবে না।’
নজরুল ইসলাম নামে লোহাগাড়া উপজেলার অপর এক বাসিন্দা বলেন, ‘শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর মধ্যে দিয়ে ২০২৪’-এর পরাজিত শক্তি আবারও মাথা ছাড়া দিয়ে উঠছে। মূলত ২৪-এর পরাজিত শক্তি তথা আওয়ামী লীগের স্বৈরচারের দোষররাই তার বিরুদ্ধে নানাভাবে অপপ্রচারে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। আগামী নির্বাচনে এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ব্যালটের মাধ্যমে উচিত জবাব দেওয়া হবে।’
এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের টিম সদস্য জাফর সাদেক বলেন, ‘শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের খন্ডিত অংশ মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে। খন্ডিত অংশ প্রচার করা ঠিক না। এটা পরিকল্পিত মনে হচ্ছে। এতে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। পুরো বক্তব্য প্রকাশ করলে মানুষ প্রকৃত সত্যটা জানবে।’
সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. নুরুল হক বলেন, ‘সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার মানুষের হৃদয়ে রয়েছে শাহজাহান চৌধুরীর নাম। কিছু মিডিয়া তাকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে এলাকার মানুষ এসব অপপ্রচারের দ্বার ধারেন না।’
লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘শাহজাহান চৌধুরী সাতকানিয়া-লোহাগাড়া উপজেলার জনন্দিত ও জনপ্রিয় ব্যক্তি। তিনি দুই বার সংসদ সদস্য থাকাকালীন এলাকার জন্য অনেক উন্নয়ন করেছেন। এলাকায় তার বিকল্প নেই। আগামী জাতীয় নির্বাচনে তার জনপ্রিয়তার কাছে অন্য প্রার্থীরা জয়ী হতে পারবে না জেনে এখন থেকে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন।’
সাতকানিয়া উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম বলেন, ‘নির্বাচন যতই ঘণিয়ে আসছে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ¦ শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ততবেশি বেড়েই চলেছে। কিছু মিডিয়ায় তার পুরো বক্তব্য প্রচার না করে খন্ডিত বক্তব্য প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। খন্ডিত বক্তব্যের কারনে মানুষ বুঝতে পারছেন না তিনি কোন কথা কি কারনে বলেছেন। একটি কুচক্রি মহল তার খন্ডিত বক্তব্য নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
সাতকানিয়ার প্রাণ কেন্দ্র কেরানিরহাট প্রগতিশীল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাস্টার জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘শাহজাহান চৌধুরীকে নিয়ে যেসব অপপ্রচার চলছে তার কোন বাস্তব ভিত্তি নেই। কিছু মিডিয়ায় পুরো ভিডিও প্রকাশ না করে কয়েক সেকেন্ডের খন্ডিত বক্তব্য প্রকাশ করা হচ্ছে। পুরো বক্তব্য প্রকাশ করা হলে মানুষ প্রকৃত সত্য জানতো। এগুলো যারা করছে তারা পরিকল্পিতভাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করে জামায়াতে ইসলামী তথা শাহজাহান চৌধুরীকে টার্গেট করে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে এলাকার মানুষ এসব অপপ্রচারে কাণ দিচ্ছে না। মানুষ শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গেই আছে।’
এ প্রসঙ্গে আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘ ১৮টি বছর ফ্যাসিস্টদের কবলে পড়ে শত নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম। প্রতিটা ঘরে ঘরে মামলা দিয়ে আমাদের ভাইদের ঘর ছাড়া করে রেখেছিল। তাদের নির্যাতন থেকে এলাকার বৃদ্ধরাও বাদ যায়নি। মসজিদের ইমাম, খতিব, মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল, সুপার, শিক্ষক স্কুলের প্রধান শিক্ষক এমনকি কলেজের প্রফেসরও তাদের অত্যাচার নির্যাতন থেকে বাদ যায়নি। কিন্তু তারপরেও আমাদের ভাইদেরকে ইসলামী আন্দোলন থেকে সরাতে পারেনি। আমরা আগামীতে সকল ধর্ম বর্নের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একটি ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সকলের সহযোগীতা চাই।’
আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসন থেকে বিপুল ভোটে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই এলাকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন, বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে অগ্রণী ভূমিকা পালন ও অসামান্য অবদান রাখেন।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী সংসদীয় দলের হুইপ, সংসদীয় হাউজ কমিটির সদস্য ও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জাতীয় শিল্প উন্নয়ন পরিষদ সদস্য এবং সংসদীয় ইঞ্জিনিয়ারিং সাব কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারা পরিদর্শক হিসেবে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ২০০৪-২০০৫ সালে পরপর দুই বার জাতীয় সংসদের প্যানেল স্পিকার মনোনীত হন।
১৯৭৯ সালে ছাত্রজীবন শেষ করে শাহজাহান চৌধুরী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। ১৯৮১ সালে জামায়াতের রুকন (সদস্য) হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ১৯৮২-৮৬ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র কোতোয়ালী থানার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৭-৮৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সেক্রেটারি এভং ১৯৮৯ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত জেলা আমীরের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০-২০০৬ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরীর নায়েবে আমীরের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, চট্টগ্রাম মহানগরীর শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য হেসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৯ সাল থেকে অদ্যাবধি কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য হিসেবে কেন্দ্রীয় সংগঠনের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরের আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সাল থেকে অদ্যবধি কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য হিসেবে কেন্দ্রীয় সংগঠনের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।
১৯৯১ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় ব্যাপক উন্নয়ণ করেন। এমনকি সাতকানিয়া পৌরসভার প্রতিষ্ঠাতাও আলহাজ¦ শাহজাহান চৌধুরী। এছাড়াও যোগাযোগ, শিক্ষাসহ সর্বক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। শিক্ষারক্ষেত্রে সাতকানিয়া আদর্শ মহিলা কলেজ, রব্বানী মহিলা মাদ্রাসা, আল হেলাল আদর্শ আদর্শ ডিগ্রি কলেজ, সাতকনিয়া আদর্শ মহিলা মাদ্রাসা, গৌড়স্থান উচ্চ বিদ্যালয়, বড় হাতিয়া আয়েশা সিদ্দিকা মহিলা মাদ্রাসা, মোজাদ্দেদ আল্ ফেসানী একাডেমী, দক্ষিণ ছমদর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছমদিয়া এতিমখানা, ছমদরপাড়া মহিলা হেফজ খানা ও এতিমখানা, আশ্ শেফা স্কুল এন্ড কলেজ, ইলোমিনেট স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসহ এলাকার উন্নয়নে তার রয়েছে উল্লেখযোগ্য অবদান।


