বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

মিরসরাইয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৮ মাসে ৫ খুন, শতাধিক আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, মিরসরাই :

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, গ্রুপিং, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও দখল-আধিপত্যের লড়াইয়ের কারণে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতি। গত ৮ মাসে এসব বিরোধে প্রাণ হারিয়েছেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচজন নেতাকর্মী। সংঘর্ষ, হামলা ও প্রতিহিংসামূলক আক্রমণে আহত হয়েছেন শতাধিক।

দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতবছর বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মিরসরাই উপজেলা, বারইয়ারহাট এবং পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে পদবঞ্চিত অনেক নেতা অসন্তুষ্ট হয়ে পড়েন।

বিরোধ তীব্র হয় উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও মিরসরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন এবং অপর যুগ্ম আহ্বায়ক নূরুল আমিনের অনুসারীদের মধ্যে। এই দ্বন্দ্বই পরবর্তীতে রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ নেয়।

গত ২৬ মার্চ বারইয়ারহাটে বিএনপির দুটি গ্রুপের সংঘর্ষে পথচারী মো. জাবেদ (৪৫) নিহত হন। ছুরিকাঘাতে আহত হন যুবদল কর্মী মো. সুমনসহ অন্তত ৩০ জন। ১০ অক্টোবর রাতে দুর্বৃত্তদের হামলায় খুন হন বিএনপি নেতা কবির আহম্মদ (৭০)। তার ছেলে ও যুবদলের কর্মীসহ আরও চারজন আহত হন।

১৩ জানুয়ারি মিরসরাই বাণিজ্য মেলায় প্রতিপক্ষের হামলায় যুবদল নেতা জাহেদ হোসেন মুন্না (২২) খুন হন। আহত হন আরও আটজন। ১ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিএনপি নেতা মো. রফিক (৪৫) খুন হন। একই ঘটনায় আহত হন ৭ জন।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে ৫ আগস্ট। সেদিন বিজয় মিছিল শেষে নিখোঁজ হন বিএনপি কর্মী ছায়েদ আলম (৩৫)। তার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার হয় ৭ দিন পর।

এতসব হত্যাকাণ্ডের পর একাধিক মামলা হলেও অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ আসামি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ রয়েছে, অনেকেই প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন বলেন, ‘কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বিএনপির সুশৃঙ্খল রাজনীতিকে কলুষিত করতে চাইছে। আদর্শচ্যুতদের দলে কোনো স্থান নেই।’

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, “প্রতিটি ঘটনায় তদন্ত চলছে। একাধিক টিম আসামিদের ধরতে কাজ করছে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. আবদুল হালিম বলেন, “আমরা হত্যাসহ সব অপরাধে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

মিরসরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল আউয়াল চৌধুরী বলেন, “বিএনপি একটি সুশৃঙ্খল দল। কিছু অনুপ্রবেশকারী নিজেদের স্বার্থে গ্রুপ ভারি করে অরাজকতা করছে। দলীয় হাইকমান্ড বিষয়টি জানেন। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের মতে, যদি দ্রুত ও কার্যকর সাংগঠনিক পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে এই সহিংসতা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত