বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

মহানগর জামায়াতের মহিলা সমাবেশে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম

নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ছাড়া কল্যাণ রাষ্ট্রের স্বপ্ন পূরণ সম্ভব নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জুলাই আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, “নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ছাড়া কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণ হবে না।”

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরীর একটি কনভেনশন সেন্টারে ‘জুলাই বিপ্লব বার্ষিকী’ উপলক্ষে জামায়াতের মহিলা বিভাগ আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগরী মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি ফরিদা খানম।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ও শামসুন্নাহার হলের প্রভোস্ট ইসমত আরা হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের চট্টগ্রাম অঞ্চলের দায়িত্বশীলা মেরিনা সুলতানা, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ফিজিওলজি বিভাগের ডা. শাওয়াল নওশীন নূর চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম সরকারি বিএড কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক জোবাইদা নাসরিন।

প্রারম্ভিক তেলাওয়াত করেন চান্দগাঁও থানার পেশাজীবী বিভাগের দায়িত্বশীলা তাসলিমা সুলতানা কলি। আবৃত্তি করেন পাঁচলাইশ থানার সাহিত্য-সাংস্কৃতিক বিভাগের নাজনীন আক্তার তানিয়া, হামদ পরিবেশন করেন ইফফাত সাদিয়া এবং গীতি আলেখ্য উপস্থাপন করেন রিদওয়ান শিল্পী গোষ্ঠী।

বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “২০০১-২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে আওয়ামী লীগ ‘লগি-বৈঠা সন্ত্রাসের’ মাধ্যমে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা রুদ্ধ করে। এরপর ১/১১-এর অস্বাভাবিক শাসন এবং ২০০৮ সালের ডিজিটাল কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের ভিত্তি রচিত হয়।”

তিনি বলেন, “২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালের ‘নিশিরাতের ভোট’ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের ‘আমি-ডামি’ নির্বাচন ফ্যাসিবাদকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যায়। গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যার মাধ্যমে সরকার মানবাধিকার হরণ করেছে, নেতাকর্মীদের নেতৃত্বশূন্য করতে প্রশ্নবিদ্ধ বিচারিক হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মৃত্যুর এক বছরের মাথায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সূত্র ধরে শুরু হয় একদফার গণআন্দোলন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল বিস্ময়কর। তথ্য অনুযায়ী ১৩২ শিশু-কিশোর এবং ১১ নারী শহিদ হন। এই শহিদ নারীদের মধ্যে ছিলেন মায়া ইসলাম, মেহেরুন নেছা, লিজা, রিতা আক্তার, নাফিসা হোসেন মারওয়া, নাছিমা আক্তার, রিয়া গোপ, কোহিনূর বেগম, সুমাইয়া আক্তার, মোসা. আক্তার ও নাঈমা সুলতানা।”

নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সূরা তাওবার ৭১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘মুমিন পুরুষ ও নারী পরস্পরের বন্ধু, তারা সৎকাজে উদ্বুদ্ধ করে, অসৎ কাজে বাধা দেয়।’ এই শিক্ষা বাস্তবায়ন করতে পারলেই কল্যাণ রাষ্ট্র গড়া সম্ভব হবে, ইনশা-আল্লাহ।’9

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত