বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

৪৬ কোটি টাকার হিসাব নিয়ে বসতে যাচ্ছে বিসিবি-চিটাগং কিংস

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পাঠানো ৪৬ কোটি টাকা পাওনার নোটিশকে ভিত্তিহীন বলেছেন বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি চিটাগং কিংসের মালিক সামির কাদের চৌধুরী। যদিও সামির কাদেরের দাবি, সমস্যা সমাধানে দুই পক্ষই বসতে যাচ্ছে আলোচনার টেবিলে।

এ প্রসঙ্গে সামির কাদের বলেন, ‘আমার সাথে আজকে কথা হয়েছে কিছু বোর্ড পরিচালকদের সঙ্গে। ওনারা আমাকে নিশ্চিত করেছেন যে এটা নিয়ে আমার সাথে খুব শিগগিরই বসে সমাধান করবে।’ আলোচনায় বসতে চাওয়ায় বিসিবিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এখন যেহেতু তারা আমাকে আজকে দুপুরবেলা বলেছেই যে তারা বসবেন, আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, এতদিন পর যে নিজ থেকে তারা এখন আমাকে ডাকছে আলোচনায় বসার জন্য।’

তবে অংকটা ৪৬ কোটি টাকার নয় বলেই দাবি করেন সামির, ‘মজার বিষয় হলো এই ফিগারটা ৪৬ কোটি টাকার। এটা না ওনাদের (বিসিবি) কাছে কোনও জবাব আছে, না আমার কাছেও কোনও জবাব আছে। কিন্তু বাজারে ঘুরছে ৪৬ কোটি টাকার কথা। এই ফিগারটা কোথা থেকে আসছে এটা কারও কাছে কোনও উত্তর নেই। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছেও এটা আপনাদের সামনে হয়তোবা জিজ্ঞেস করা হয়েছে, এটার কোনও উত্তরই নেই। আমার কাছেও নেই।’

সামির আরও জানান, ‘২০১৮ সালে বিসিবি বকেয়ার বিষয়ে হাইকোর্ট থেকে স্টে-অর্ডার নিয়েছিল, ফারুক আহমেদের (সাবেক বিসিবি সভাপতি) সঙ্গে আমাদের সমঝোতা হয় যে সাড়ে ৩ কোটি টাকা দিতে হবে, এখন সেটা ৪৬ কোটি কীভাবে হলো এটা বিসিবিও জানেনা, আমার সঙ্গে বসতে রাজি হয়েছে তারা।’

বিপিএলের ভাবমূর্তি নষ্টের পেছনে বিসিবিকেই দায়ী করেন সামির। তিনি বলেন, ‘বিপিএলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে বিসিবি, স্টে-অর্ডারের মাঝে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে আদালত অবমাননা করেছে তারা, চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত নিয়ে আলোচনা করতে বোর্ড থেকে এতদিন পর আগ্রহ দেখিয়েছে, আমি খুশি।’

বিপিএলের সর্বশেষ আসরে ফিরে আসা চিটাগং কিংস মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে বেশি শিরোনামে এসেছে পারিশ্রমিক নিয়ে বিতর্কে। শহীদ আফ্রিদিকে মেন্টর হিসেবে নিয়োগ দিলেও টুর্নামেন্ট শেষে তার পারিশ্রমিক পরিশোধ না করায় শুরু হয় সমালোচনা। একই অবস্থা প্রধান কোচ শন টেইটের ক্ষেত্রেও—অস্ট্রেলিয়ান এই কোচও পাননি প্রাপ্য টাকা। উপস্থাপিকা ইয়াশা সাগরের পারিশ্রমিকও আটকে রাখা হয়। পারভেজ হোসেন ইমনের পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে নেতৃত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন দলটির অন্যতম কর্তা সামির কাদের। এমনকি জাতীয় দলের পেসার শরিফুল ইসলামের ১০ লাখ টাকা পারিশ্রমিক এখনো বকেয়া চিটাগং কিংসের কাছে।

একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির এ ধরনের আচরণ পুরো টুর্নামেন্টের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। এই কারণে গুঞ্জন আছে আগামী মৌসুমে ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে চিটাগংকে নেবে না বিসিবি। যদিও সামির কাদের দাবি করেন, সমস্যা সমাধান না করে কীভাবে অন্যদের আনা হবে, ‘আমি এটা শুনেছি, রিপ্লাইও করেছি। লিগ্যাল সাইড থেকে একটা কথা বলি আমার সাথে তো আপনি সমাধানই করছেন না, তাহলে আমার জায়গায় অন্য কাউকে আপনি কীভাবে আনছেন।’

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত