বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

৭ বছর আগে গুমের ঘটনায় ৮ জনকে আসামি করে মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে সাত বছর আগে মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান সুমন (৩৯) নামে এক ব্যক্তিকে গুমের ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৬ষ্ঠ এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ভিকটিমের বড় ভাই ওমান প্রবাসী মো. মাহাবুবুর রহমান (৫৫)। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মহানগরকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলায় তিন জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচ জনকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখিত আসামিরা হলেন— মো. তারেকুর রহমান ওরফে তারেক (৪২), মো. জাহাঙ্গীর মুন্সি (৩৫) ও মো. জাহাঙ্গীর (৪৫)। বাদীর অভিযোগ, তারা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের ১৩ জুন সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে সুমনকে চট্টগ্রাম নগরের পশ্চিম বাকলিয়া এলাকার ডিসি রোডের আব্দুল মোনাফ বিল্ডিংয়ের ৬ষ্ঠ তলার ব্যাচেলর কক্ষ থেকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে আসামিরা তাকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেন। ঘটনার দুই দিন আগে ভিকটিম ও আসামিদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয় এবং সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

ঘটনার দিন সুমনের রুমমেট সায়েম ফোনে তার বড় বোন স্কুলশিক্ষিকা ফেরদৌসি রহমানকে জানান যে, সুমন নেই। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষ এলোমেলো ও মোবাইল ফোন ভাঙা অবস্থায় পান। থানায় মামলা করতে গেলে তৎকালীন চকবাজার থানা পুলিশ রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে মামলা না নিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করে এবং কোনো তদন্ত না করে বরং ভিকটিমের পরিবারকে ভয়ভীতি ও অপবাদ দেয়। এমনকি পুলিশ ভিকটিমের বোনকে গ্রেফতারের হুমকিও দেয়।

বাদীর দাবি, আসামিরা সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে অপহরণ ও গুমের ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার পর থেকে বাদী ও তার পরিবার প্রাণনাশের হুমকির মুখে ছিলেন, যার ফলে মামলা করতে দীর্ঘ বিলম্ব হয়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরও বিভিন্ন দপ্তরে সহায়তা চেয়ে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) সহায়তায় তিনি মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেন।

বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম জেলা বার এসোসিয়েশনের সভাপতি এডভোকেট আব্দুস ছাত্তার, মানবাধিকার আইনবিদ এডভোকেট এ এম জিয়া হাবীব আহ্সান, এডভোকেট সৈয়দ মো. হারুন, এডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ, এডভোকেট এএইচএম জসীম উদ্দিন, এডভোকেট মো. হাসান আলী, এডভোকেট মোহাম্মদ বদরুল হাসান ও এডভোকেট মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন আরমান প্রমুখ।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত