কনটেইনারবাহী গাড়ির হেলপার সেজে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় বন্দর থানা পুলিশ কর্মকর্তার উপর হামলায় জড়িত মো. শাকিলকে (২৭) গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বন্দর থানাধীন ঈশান মিস্ত্রিরহাটস্থ ‘স’ মিল সংলগ্ন একটি পরিত্যাক্ত ঘর থেকে তার সহযোগী মো. আরিফ হোসেনকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়। এ সময় আরিফের কাছ থেকে ১টি লোহার কিরিচ এবং শাকিলের দেওয়া তথ্যে একটি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক, তিন রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। শনিবার (১৬ আগস্ট) দ্বিবাগত রাত ৩টায় এ ঘটনা ঘটেছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মো. শাকিল বন্দর থানাধীন দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর এলাকার মো. দিদারুল আলমের ছেলে এবং মো. আরিফ হোসেন ভোলা জেলার সদর থানাধীন মো. আশরাফ আলীর ছেলে। থাকেন নগরীর বন্দর থানাধীন লোহারপুল এলাকায়। এরমধ্যে শাকিলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় নানা অভিযোগে মোট ৯টি মামলা রয়েছে।
রবিবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে দামপাড়ায় সিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের নিচতলা মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিং করে এ তথ্য জানান সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম।
তিনি জানান, গত ১১ আগস্ট রাত ১২টায় বন্দর থানাধীন ঈশান মিন্ত্রিরহাট খালপাড় এলাকায় শাকিলের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের একটি মিছিল বের হয়। খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তখন শাকিলের নেতৃত্বে পুলিশের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালানো হয়। এ সময় বন্দর থানা পুলিশের এসআই আবু সাঈদ রানার উপর হামলা করে। হামলায় আবু সাঈদ রানা মাথা, গলা, হাত ও পেটে গুরুত্বর জখম হয়। এ ঘটনায় বন্দর থানায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্ত করছেন থানার এসআই মো. ইয়াছিন।
পুলিশ জানায়, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানতে পারেন পুলিশের উপর হামলার মূল হোতা শাকিল পালিয়ে যাচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (১৬ আগস্ট রাত ৩ টায় বন্দর থানার ওসি আফতাব উদ্দিনের নেতুৃত্বে পতেঙ্গা সী-বিচস্থ আউটার রিং রোডে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় কনটেইনারবাহী একটি গাড়ির সামনে হেলপারের সিটে বসা অবস্থায় শাকিলকে গ্রেফতার করা হয়। শাকিল ওই গাড়ির হেলপার সেজে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পালিয়ে যাচ্ছিল বলেও জানান তিনি। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের উপর হামলায় জড়িত তার অন্যতম সহযোগী আরিফ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১টি লোহার কিরিচ, একটি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক ও তিন রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
সিএমপির বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘হামলায় আহত বন্দর থানার এসআই আবু সাঈদ রানা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার উপর হামলায় ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যে এ পর্যন্ত ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


