পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক কৃষকদের দারিদ্র্য হ্রাসের লক্ষ্যে ২০২২–২৩ থেকে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৪১ কোটি ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। ‘কফি ও কাজুবাদাম প্রকল্প’ নামে নেওয়া এই উদ্যোগের অধিকাংশ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. জসিম উদ্দিন—এমন অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে শুধু বান্দরবানেই বরাদ্দ ছিল ১৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কৃষকদের দেওয়া হয়েছে শুধু নিম্নমানের কিছু চারা, যা রোপণের পর নষ্ট হয়ে গেছে। বরাদ্দ থাকা ৯২টি পানির ট্যাংকের মধ্যে দেওয়া হয়েছে মাত্র ১২টি, তাও সড়কের পাশে প্রদর্শনের জন্য। সার, কীটনাশক, প্রক্রিয়াজাতকরণ মেশিন, প্রশিক্ষণ—কোনো সুবিধাই কৃষকরা পাননি। ফলে বাগান নষ্ট হয়ে কৃষকরা আবার জুম ও সবজি চাষে ফিরে গেছেন।
রুমার কৃষক ক্যাসা মারমা অভিযোগ করে বলেন, তাদের পাড়ার ২১ জন কৃষকের মধ্যে বেশিরভাগই কোনো সুবিধা পাননি। শুধু রাস্তার ধারে কিছু বাগানে চারা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে রোয়াংছড়ির প্লেদয় পাড়ার খামচিয়াং ম্রো জানান, ছোট চারা লাগানোর পরপরই মরে গেছে, এখন বাগানে শুধু জঙ্গল আছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে তাদের কিছুই জানানো হয়নি। গোপনে কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাগজপত্রে কাজ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে।
মাঠকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রকল্প পরিচালক নির্দেশনা দিয়েছেন যেন ট্যাংকগুলো সড়কের পাশে বসানো হয়, যাতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চোখে পড়ে। অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা মনে করেন, যথেষ্ট জনবল ও তদারকি ছাড়া পাহাড়ে এ ধরনের প্রকল্প সফল হওয়া সম্ভব নয়।
তবে প্রকল্প পরিচালক জসিম উদ্দিন দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রকল্পে কিছুটা ত্রুটি হয়েছে এবং কিছু টাকা ফেরতও পাঠানো হয়েছে। আসন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষকদের ভাগ্য ফেরার সুযোগ তৈরি হবে বলেও দাবি করেন তিনি।


