চট্টগ্রাম বন্দরের আশপাশে গড়ে ওঠা বেসরকারি কন্টেইনার ডিপো (অফডক) পরিচালনাকারী সংগঠন বিকডা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৩০ থেকে ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এতে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন বিকডা, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।
বিকডার দাবি, অফডক পরিচালনার খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় ট্যারিফ সমন্বয় ছাড়া বিকল্প নেই। বর্তমানে ২০ ফিটের একটি কন্টেইনার স্টাফিং খরচ ৬,১৮৭ টাকা হলেও ১ সেপ্টেম্বর থেকে তা দাঁড়াবে ৯,৯০০ টাকা। ৪০ ফিট কন্টেইনারের ক্ষেত্রে খরচ ৮,২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ১৩,২০০ টাকা। এভাবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেবার চার্জ ৩০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়বে।
তবে বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে দীর্ঘদিন মন্দা ভাব চলছে। হঠাৎ ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ বৃদ্ধি ব্যবসায়ীদের জন্য অস্বস্তিকর হবে। বিজিএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, “আলোচনা ছাড়াই একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ মুহূর্তে পোশাক খাত বাড়তি চাপ সামলানোর অবস্থায় নেই।”
শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ মনে করেন, চার্জ নির্ধারণের জন্য বন্দর-সংশ্লিষ্ট বোর্ড থাকলেও তাদের সঙ্গে আলোচনার বাইরে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়।
বিকডার সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার জানান, ২০২১ সালে সর্বশেষ চার্জ সমন্বয় করা হয়েছিল। এরপর জ্বালানি ও অন্যান্য খরচ বহুগুণ বেড়েছে, তাই বাধ্য হয়েই ট্যারিফ বাড়ানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, চার্জ বাড়ানোর যৌক্তিকতা থাকলেও সময় ও হার নির্ধারণে আলোচনার প্রয়োজন ছিল। এ উদ্যোগ বন্দরের নেওয়া উচিত।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুখ জানিয়েছেন, বিকডা ও বিজিএমইএ-শিপিং এজেন্ট উভয় পক্ষই লিখিত মতামত দিয়েছে। চাইলে বন্দর মধ্যস্থতা করে সমাধানের উদ্যোগ নেবে।


