বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

খাস্তগীর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখলের পাঁয়তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ডা. খাস্তগীর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৪৭ বছরের পুরোনো খেলার মাঠ দখলের পাঁয়তারা চলছে। প্রায় শতকোটি টাকার সাড়ে ১৫ কাঠা আয়তনের এই মাঠ ২০০৬ সালে মাত্র ৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় বিক্রি দেখানো হলেও সম্প্রতি নামজারির জন্য আবেদন করা হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, ভূমি অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার যোগসাজসে সরকারি এই সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। সরকারি বিদ্যালয়ের জায়গা ক্রয়-বিক্রয়ের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

ডা. খাস্তগীর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় চট্টগ্রামের প্রাচীনতম ও মর্যাদাপূর্ণ বালিকা বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৮৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয় দেশের নারী শিক্ষার অগ্রদূত হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী নেত্রী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারসহ অসংখ্য শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করেছেন। ২০২৪ সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পায় এই বিদ্যালয়, যা এর সুনামকে আরও উজ্জ্বল করে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহেদা আক্তার বলেন, এই মাঠটি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অন্যতম স্থান। এটি স্কুলের সম্পত্তি এবং বর্তমানে স্কুলের ভোগ-দখলে রয়েছে। কোনো ভূমিদস্যু বা দুষ্কৃতকারীর হাতে এই জায়গা তুলে দেওয়া হবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের জন্য এই মাঠ অমূল্য সম্পদ। তাদের বিনোদন, শারীরিক সুস্থতা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের জন্য মাঠের বিকল্প নেই।”

বাকলিয়া সার্কেল ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুমা আক্তার কণা জানান, নামজারির জন্য যতবারই আবেদন করা হোক না কেন, তা খারিজ করা হবে। পূর্বেও নামজারির জন্য আবেদন করা হয়েছিল, সেটিও খারিজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিচ্ছি। কোনো অসাধু চক্রকে এভাবে সুযোগ দেওয়া হবে না।”

বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ নিয়ে এই দখলচেষ্টা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা আশঙ্কা করছেন, যদি এই ঐতিহ্যবাহী মাঠ হাতছাড়া হয়, তবে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। স্থানীয় বাসিন্দারাও বলছেন, বিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন। তারা চান, ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এই ঐতিহ্যবাহী সম্পদকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অক্ষুণ্ণ রাখা হোক।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত