বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

চট্টগ্রাম বন্দরে টেনের ইঞ্জিন সংকটে ভয়াবহ কনটেইনার জট

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকার কমলাপুর ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) পণ্য পরিবহনে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিনের ইঞ্জিন সংকটের কারণে ভয়াবহ জট সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন চার থেকে পাঁচটি ট্রেনের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে নিয়মিত দুইটি ট্রেনও পাওয়া যাচ্ছে না। কোন কোন দিন একটিও ট্রেন পাচ্ছেন না। এর ফলে বন্দরের আইসিডি ইয়ার্ডে কনটেইনারের অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়েছে।

আইসিডি ইয়ার্ডের স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা ৮৭৬টি কনটেইনার হলেও রবিবার (২৪ আগস্ট) সেখানে দুই হাজারের বেশি কনটেইনার জমে রয়েছে। এর বাইরে বহির্নোঙরে থাকা জাহাজে আরও প্রায় এক হাজার কনটেইনার রয়েছে, যা কমলাপুর আইসিডিতে খালাস হওয়া বাকি। সংকুলানের অভাবে কিছু কনটেইনার খোলা ট্রানজিট পয়েন্টে রাখা হয়েছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পূর্বাঞ্চলে ট্রেন চলাচলের জন্য অন্তত ১১৬টি ইঞ্জিন প্রয়োজন, কিন্তু নিয়মিত মাত্র ৮০–৮৫টি ইঞ্জিনই সরবরাহ হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্যবাহী ট্রেন চালাতে প্রতিদিন গড়ে ১৩টি ইঞ্জিনের প্রয়োজন। অথচ চাহিদার তুলনায় মাত্র তিন থেকে চারটি ইঞ্জিনই পাওয়া যাচ্ছে।

এক রেল কর্মকর্তা বলেন, “গত ১৫ বছরে সরকার মূলত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পে নজর দিয়েছে। ট্রেন পরিচালনার জন্য ইঞ্জিন ও বগি আমদানির দিকে তেমন নজর দেওয়া হয়নি। এর ফলে গত তিন বছরে পূর্বাঞ্চলে অনেকগুলো ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে চলাচলরত ট্রেনগুলোর বেশির ভাগ কম বগি নিয়ে চলাচল করছে। ফলে রেলওয়ে লোকসান এবং যাত্রীদের অসন্তোষের মুখোমুখি।”

চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রতিদিন পর্যাপ্ত সংখ্যক ওয়াগন সরবরাহ না হলে আইসিডি ইয়ার্ডে কনটেইনার জট আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। নোঙর করা জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাসেও বিলম্ব হবে, যা সরবরাহ চেইনকে ব্যাহত করবে। বন্দরের পক্ষ থেকে রেলওয়েকে চিঠি দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ২০০ একক কনটেইনার পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় ওয়াগন ও ইঞ্জিন সরবরাহ নিশ্চিত করার অনুরোধ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, “বর্তমানে আইসিডি ইয়ার্ডে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে দুই গুণ বেশি কনটেইনার জমে গেছে। রেলওয়ের ইঞ্জিন সংকটের কারণে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচটি ট্রেনের পরিবর্তে এক থেকে দুইটি ট্রেনই পরিচালনা করা হচ্ছে। বিষয়টি রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও অবগত।”

আইসিডিগামী কনটেইনার পরিবহনের দীর্ঘায়নের কারণে আমদানিকারকরা বেকায়দায় পড়েছেন। পণ্য ভর্তি কনটেইনার ইয়ার্ডে ৬ থেকে ১৬ দিন পর্যন্ত আটকা থাকায় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমএসসি শিপিং লিমিটেডের হেড অব অপারেশন আজমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, “বন্দরের বড় একটি অংশ কনটেইনার দখল করে রাখায় নতুন কনটেইনার খালাসে বিলম্ব হচ্ছে। এতে আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে ভোক্তাদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।”

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকার কমলাপুর ডিপোর মধ্যে রেলপথে কনটেইনার পরিবহন শুরু হয় ১৯৮৭ সালে। তবে প্রায় ৩৮ বছর পরও এই পথে পণ্য পরিবহনের অংশ মাত্র ৩ শতাংশেরও কম। অথচ এটি নিরাপদ ও সাশ্রয়ী পরিবহন মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুবক্তগীন জানিয়েছেন, “রেলে ইঞ্জিন সংকট প্রকট। যার কারণে বন্দরের চাহিদা অনুযায়ী আইসিডিগামী কনটেইনার পরিবহনে ইঞ্জিন সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।”

গত ২১ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের আইসিডিগামী কনটেইনারের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার নিলামযোগ্য কনটেইনার নিলামের অপেক্ষায় রয়েছে। এই ১০ হাজার কনটেইনারের সঙ্গে ঢাকা আইসিডির দুই হাজার কনটেইনার মিলিয়ে প্রায় ১২ হাজার কনটেইনার স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি অবস্থান করছে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত