বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ঐতিহাসিক বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধান এবং সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

রোববার (২৪ আগস্ট) ঢাকার একটি হোটেলে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং সফররত পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই দাবি জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে খোলামেলা ও গঠনমূলক আলোচনা করেছে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ, জনগণের সঙ্গে জনগণের সংযোগ, সংস্কৃতি, পর্যটন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতে সহযোগিতা জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বাংলাদেশ পক্ষ থেকে বলা হয়, ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়া ছাড়া অতীতের ক্ষত পুরোপুরি নিরাময় হবে না। একই সঙ্গে সম্পদের বণ্টন, ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আসা বৈদেশিক সাহায্যের হস্তান্তর, আটকে পড়া পাকিস্তানিদের প্রত্যাবাসনসহ অমীমাংসিত ঐতিহাসিক বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সমুদ্র সংযোগ উন্নত করা এবং বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু করার অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডোর চালুর প্রক্রিয়া চলছে। এর আওতায় আগামী পাঁচ বছরে পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৫০০ বৃত্তি দেওয়া হবে, যার এক-চতুর্থাংশ চিকিৎসাক্ষেত্রে বরাদ্দ থাকবে। তিনি আরও জানান, জুলাই বিদ্রোহের সময় আহত ৪০ জন শিক্ষার্থী ও ব্যক্তির অঙ্গ প্রতিস্থাপনসহ উন্নত চিকিৎসা প্রদানের জন্য পাকিস্তান প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে হকি দলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে পাকিস্তান।

উভয় দেশ আশা প্রকাশ করেছে, শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়া ও এর বাইরেও শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে। বৈঠকে তারা পারস্পরিক স্বার্থ ও উদ্বেগের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দ্রুত নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য পাকিস্তানের অব্যাহত সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত