চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার নারকেল তলা এলাকায় চার বছর আগে সংঘটিত গৃহবধূ মাহবুবা আক্তার (২৪) হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত মো. আরিফ (৩৫) অবশেষে গ্রেফতার হয়েছেন।
সোমবার (২৫ আগস্ট) চট্টগ্রামের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর বর্ণনা দিয়েছেন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানায়, নিহতের শ্বাশুড়ি নাজনীন বেগম পুত্রবধূর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং পারিবারিক অশান্তির কারণে আরিফকে ভাড়া করেন। চুক্তির পরিমাণ ছিল দেড় লাখ টাকা।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, নাজনীন বেগমের ছেলে আব্দুল গোফরান পরপর দুইবার বিয়ে করলেও মায়ের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় দুই স্ত্রীকেই ডিভোর্স দিতে বাধ্য হন। তৃতীয় স্ত্রী মাহবুবা ছিলেন তার খালাতো বোন। সামাজিক কারণে ডিভোর্স দেওয়া সম্ভব নয় বলে শ্বাশুড়ি পুত্রবধূকে খুনের পরিকল্পনা করেন। আরিফ তখন ইপিজেডের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন এবং নিহতের শ্বশুরবাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন। নাজনীন তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সূত্রে যোগাযোগ করে খুনের প্রস্তাব দেন। আরিফ তা মেনে নেন এবং কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে তিনজন পেশাদার খুনি ভাড়া করেন।
২০২১ সালের ১৬ জুলাই শুক্রবার দুপুরে পরিকল্পনা অনুযায়ী মাহবুবাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার আগে তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। তখন তিনি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ঘটনাটিকে ডাকাতির নাটক সাজিয়ে লাশ ফেলে রাখা হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় শ্বাশুড়ি ও স্বামী গোফরান বাড়িতেই ছিলেন এবং ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। পরে গৃহবধূর ভাই মো. মিশকাত ইপিজেড থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ নাজনীন ও তার ছেলে গোফরানকে গ্রেফতার করলেও আরিফকে ধরতে পারেনি। ২০২২ সালে অভিযোগপত্র দাখিলের পর আদালত পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।
টানা অনুসন্ধানের পর রবিবার (২৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম শহর থেকে আরিফকে গ্রেফতার করে পিবিআই। তিনি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ বিবরণ দিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিটের এসআই মো. মহসীন চৌধুরী জানিয়েছেন, নাজনীন আরিফকে দেড় লাখ টাকা দেন এবং খুনের পর সেই টাকা চারজনের মধ্যে ভাগ করা হয়। আরিফ দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে সম্প্রতি চট্টগ্রামে ফিরে আতুরার ডিপো এলাকায় হকারের কাজ করছিলেন। পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপর তিন পেশাদার খুনিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


