ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে একটি সিআর মামলার তদন্তকালে বাদী-বিবাদীর ধস্তাধস্তি থামাতে গিয়ে থানার এক উপপরিদর্শক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার বিবাদীকে সোমবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয়। আজ মঙ্গলবার সকালে স্বামীর জন্য খাবার নিয়ে গেলে স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধারা ইউনিয়নের কলনীপাড়া এলাকার শরীফা খাতুন জমি সংক্রান্ত বিরোধে আদালতে মামলা করেন। সোমবার সন্ধ্যায় তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বাদীকে নিয়ে বিবাদীর বাড়িতে যান। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতে দু’পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। ধস্তাধস্তি থামাতে গেলে এসআই শহিদুল ইসলামের চোখে আঘাত লাগে। পরে তিনি ঘটনাটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুনকে জানান।
পরবর্তীতে উপপরিদর্শক শুভ্র সাহা ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিবাদী আব্দুর রশিদকে গ্রেপ্তার করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন, গ্রেপ্তারের সময় শারীরিক নির্যাতন করা হয়। তবে এসআই শুভ্র সাহা এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।
আজ সকালে গ্রেপ্তার আব্দুর রশিদের স্ত্রী জাহানারা বেগম স্বামীর জন্য খাবার নিয়ে গেলে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে স্বামী-স্ত্রী দু’জনকেই আদালতে হাজির করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী দেলায়ার হোসেন জানিয়েছেন, বাদী শরীফা একজন মাদক কারবারি এবং স্থানীয়দের জন্য বিপজ্জনক। ধস্তাধস্তির সময় রশিদ ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীর দিকে তেড়ে গেলে একটি পুলিশ সদস্যের উপর আঘাত পড়ে। পরে পরিস্থিতি মাফ চেয়ে সমাধান করা হলেও কেন রশিদকে গ্রেপ্তার করা হলো, তা স্থানীয়রা বোঝেননি।
উপপরিদর্শক শহিদুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর ইসলাম হারুন জানান, দু’জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে না পৌঁছানো পর্যন্ত মামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।


