বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বন্দর

দেশি-বিদেশি ছয়টি এয়ারলাইন্সের কাছে ২ হাজার ১২৬ কোটি টাকা বকেয়া

সাকিব উদ্দিন :

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দেশি-বিদেশি ছয়টি এয়ারলাইন্স থেকে ২ হাজার ১২৬ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে—এর মধ্যে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছে রয়েছে সবচেয়ে বেশি, ১ হাজার ৭৮৬ কোটি ৯৬ হাজার ৩৪৬ টাকা।

বিমানবন্দর থেকে গত ২৫ বছরে ১৫টি এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনা হঠাৎ বন্ধ করে দিয়েছে। এখন ইংরেজি বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটের সংখ্যা মাত্র দুইটি। এ কারণে আন্তর্জাতিক রুটে চট্টগ্রামের যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে এয়ারলাইন্স একের পর এক কার্যক্রম বন্ধ করে দিচ্ছে, এতে বিমানবন্দর রাজস্ব হারাচ্ছে এবং যাত্রীদের খরচ ও সময় বাড়ছে।

বিমানবন্দরটির বর্তমান সক্ষমতা অনুযায়ী বছরে ছয় লাখ যাত্রী হ্যান্ডল করার ক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে প্রায় ১৭ লাখ যাত্রী পার হচ্ছে। ইমিগ্রেশন কাউন্টার ও লাগেজ বেল্টের স্বল্পতা এবং সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সীমিত ফ্লাইট সময়ে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স প্রভাত বা মধ্যরাতীয় ফ্লাইটের সুবিধা না পেয়ে সরে যাচ্ছে।

২০০০ সালের পর থেকে ১৭টি বিদেশি এয়ারলাইন্স চলাকালীন নিয়মিত ফ্লাইট চালিয়েছিল। তবে ২০২০ পর্যন্ত পর্যন্ত ১১টি সংস্থা নদে গেছে—যেমন থাই এয়ার, মালিন্দো এয়ার, সিল্ক এয়ার প্রভৃত। কোভিড পরে আরও চারটি সংস্থা—স্পাইসজেট, জাজিরা এয়ারওয়েজ, ওমান এয়ার ও ফ্লাই দুবাই তার কার্যক্রম বন্ধ করে। বর্তমান ২টি বিদেশি এয়ারলাইন্স হলো: এয়ার এরাবিয়া ও সালাম এয়ার; নিজস্ব দেশীয় রুটে বাংলাদেশ বিমান ও ইউএস-বাংলা রয়েছে।

হিসাব অনুযায়ী, ৬টি এয়ারলাইন্সের কাছে মোট ২,১২৬ কোটি ৪৩ লাখ ৬০ হাজার ২৭৭ টাকা বকেয়া—বিল ৩৪৮ কোটি ৯৬ লাখ, ভ্যাট ৯৫ কোটি ৭১ লাখ, সারচার্জ ১ হাজার ৬৮১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে রিজেন্ট এয়ার ২৫২ কোটি ৫৭ লাখ, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ৫৫ কোটি, জিএমজি এয়ারলাইন্স ২৯ কোটি, ইউএস-বাংলা ২ কোটি ৩৮ লাখ, এবং নভো এয়ার ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।

সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ বারবার তাগাদা চিঠি পাঠাচ্ছে; তবে যারা ফ্লাইট বন্ধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও বিবেচনায় আছে। বিমানবন্দর উপপরিচালক জানান, পরিচালক বর্তমানে ওমরাহে সৌদি আরবে আছেন, বিস্তারিত তিনি জানাতে পারবেন।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, শাহ আমানত বিমানবন্দর সম্প্রতি তার ২৭০-টন ক্ষমতার কার্গো স্টেশন চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে এবং চীনসহ আন্তর্জাতিক কার্গো রুট সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে—যার মাধ্যমে আমদানী ও প্রেরণের বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি হবে।

শাহ আমানত বিমানবন্দর দেশের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, যা বছরে ১.৫ মিলিয়ন যাত্রী এবং ৬,০০০ টন কার্গো হ্যান্ডল করতে পারে। সম্প্রতি এখানে রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়েগুলো শক্তিশালী করার জন্য একটি প্রকল্প চালু রয়েছে—যা এই বছরের ডিসেম্বরে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ শাহ আমানত বিমানবন্দরকে শহরের সঙ্গে আরো সুষ্ঠুভাবে সংযোগের জন্য ১৬ কিমি দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (শহীদ ওয়াসিম আকরাম ফ্লাইওভার) নির্মাণ করেছে, যা আগেই ওপেন হয়ে Toll সংগ্রহ শুরু করেছে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত