বাংলাদেশ থেকে চোরাই পথে মিয়ানমারে যাচ্ছে ভোজ্য তেল, ডাল, আদা, আলু, কাপড়, সিমেন্টসহ নিত্যপণ্য। বিনিময়ে দেশে প্রবেশ করছে ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি অবৈধ পাচার রোধ করা না হয়, তবে দেশে নিত্যপণ্যের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এমনকি মাদক প্রবাহ বেড়ে দেশের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ১২টায় কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গা ও পুলিশের যৌথ অভিযানে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন কয়লা ডিপো পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন কর্ণফুলী চ্যানেলে একটি সন্দেহজনক কার্গো বোটে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে দেখা যায়, অবৈধভাবে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ৬২০ বস্তা ডাল, ১০ বস্তা আদা, ৪৮০ পিস লুঙ্গি ও ৪০০ পিস শাড়ি। এ সময় পাচারকাজে ব্যবহৃত কার্গো বোটসহ ৭ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে একই দিন মিয়ানমার থেকে পণ্যের বিনিময়ে মাদক পাচারের সময় ৮৭ বস্তা আলু ও ৯০০টি শীতল পাটি জব্দ করা হয়। লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার মধ্যরাত ২টায় কক্সবাজারের নাজিরারটেক সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আভিযানিক দল একটি সন্দেহজনক ফিশিং বোটকে থামার সংকেত দিলে বোটটি পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে চরে ওঠা বোটে তল্লাশি চালিয়ে ৬ লক্ষ ২ হাজার ২৫০ টাকা মূল্যের আলু ও শীতল পাটি জব্দ করা হয়। তবে বোটের তলা ফেটে পানিতে ডুবে যাওয়ায় তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এর আগেও ১৮ আগস্ট কুতুবদিয়া থানাধীন আলী আকবর ডেইল সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় কোস্ট গার্ড একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদকের বিনিময়ে পাচারের সময় ৫০০ বস্তা আলু ও একটি ফিশিং বোটসহ ১১ জন পাচারকারীকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পাচারকারীরা বাংলাদেশি নিত্যপণ্য আরাকান আর্মির কাছে বিক্রি করার বিনিময়ে মাদক সংগ্রহ করে দেশে আনে। এ সময় তারা বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে নিজেদের কার্যকলাপ ঢাকতে চেষ্টা করে।
তারও আগে ১০ আগস্ট মধ্যরাতে হালিশহর থানাধীন কাট্টলী ঘাট সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় কোস্ট গার্ড অভিযান পরিচালনা করে মাদকের বিনিময়ে ৭৫০ বস্তা সিমেন্ট ও দুইটি বোটসহ ২০ জন পাচারকারীকে আটক করে। লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, চক্রটি সিমেন্টের বিনিময়ে ইয়াবা, মদসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য বাংলাদেশে পাচার করছিল।
কোস্ট গার্ড জানায়, বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে পাচারের জন্য ব্যবহৃত পণ্যগুলোতে রয়েছে ভোজ্য তেল, ডাল, আদা, আলু, কাপড়, সিমেন্টসহ নিত্যপণ্য। অপরদিকে মিয়ানমার থেকে দেশে আসছে ইয়াবা, কোকেন ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য। এই অবৈধ চক্র রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযানের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানের সময় পাচারকারীরা সাধারণত রাতে দ্রুতগতিতে বোট নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু আভিযানিক দল তাদের থামিয়ে তল্লাশি পরিচালনা করে।
কোস্ট গার্ডের অভিযানগুলো থেকে দেখা গেছে, পাচারকারীরা মূলত বাংলাদেশের নিত্যপণ্য মিয়ানমারের নির্দিষ্ট এলাকায় বিক্রি করে মাদক সংগ্রহ করে দেশে আনে। এতে শুধু দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয় না, পাশাপাশি মাদক প্রবাহের কারণে সামাজিক সমস্যা এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়। কোস্ট গার্ড বলছে, ভবিষ্যতেও তারা অবৈধ পাচার ও মাদক প্রবেশ রোধে আরও কঠোর অভিযান পরিচালনা করবে।


