বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

জরুরী সিন্ডিকেট সভায় ১৩ সিদ্ধান্ত নিয়েছে চবি প্রশাসন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ৫৬৩তম জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সভায় ১৩ টি সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্বিবদ্যালয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সিন্ডিকেট সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সিন্ডিকেটের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো উপস্থাপন করেন।

সিদ্ধান্তগুলো হলো:
১. ৩০ এবং ৩১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উপর স্থানীয় দুষ্কৃতকারী কর্তৃক হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট তীব্র নিন্দা এবং উদ্বেগ প্রকাশ করে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে আহত সকলের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহানুভূতি জ্ঞাপন করে।
২. আহত সকল শিক্ষার্থীর উন্নত চিকিৎসা করা এবং ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বহন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
৩. উদ্ভুত পরিস্থিতিতে আহত শিক্ষার্থীদের একটি তালিকা প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
৪. সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধানের স্বার্থে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি মডেল থানা স্থাপন, রেলগেইটে নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাটল ট্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
৫. যেসব ভবন এবং কটেজে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা বসবাস করেন সে সকল ভবন এবং কটেজের মালিকদের সাথে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের ঘর ভাড়া সহ অন্যান্য অসন্তোষ নিরষনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
৬. বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুইটি অ্যাম্বুলেন্স ক্রয় এবং ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতালে রূপান্তরের জন্য dpp প্রণয়ন করে সরকারের নিকট দাখিলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ।
৭. বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় করার লক্ষ্যে ১০ তলা বিশিষ্ট পাঁচটি ছাত্র হল এবং পাঁচটি ছাত্রী হল দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডিপিপি প্রস্তুত করে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ।
৮. বিদ্যমান আবাসিক হলগুলো সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের বসবাস উপযোগী করা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ।
৯. বিদ্যমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন রাখা ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
১০. ৩০ এবং ৩১ আগস্ট ২০২৫ তারিখ সংগঠিত ঘটনা তদন্ত করে, এর কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ সম্পন্নসহ দোষীদের চিহ্নিত করার জন্য একটা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
১১. ৩০ এবং ৩১ আগস্ট ২০২৫ তারিখ সংগঠিত ঘটনা তদন্ত করে এর কারণ অনুসন্ধান, দোষীদের চিহ্নিতকরণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিম্নরূপে একটি কমিটির গঠন করে।
ক) আহবায়ক, অধ্যাপক ড. মো. তৈয়ব চৌধুরী (ডিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ,চবি)।
খ) সদস্য, অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল আজিম (পদার্থবিদ্যা বিভাগ, চবি)।
গ) সদস্য, অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শামসুল হুদা (ইনস্টিটিউট ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস, চবি)
ঘ) সদস্য, অধ্যাপক ড. মো. আমানুল্লাহ (প্রশাসক নিরাপত্তা দপ্তর, চবি)
ঙ) সদস্য, জনাব সাঈদ বিন কামাল চৌধুরী (সহকারী প্রক্টর, চবি)
চ) সদস্য, জনাব তাহমিদা খানম (সহকারী পরিচালক, ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা, চবি)
ছ) সদস্য সচিব, জনাব সৈয়দ ফজলুল করিম (ডেপুটি রেজিস্টার প্রশাসন গোপনীয় শাখা, চবি)

১২. বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্রেকহোল্ডার সাথে পর্যায়ক্রমে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠানে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

১৩. উদ্বোধক ঘটনা ও স্থানীয় নিরীহ মানুষের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির নিরূপণ করে, তা পূরণে সরকারকে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং পাশাপাশি উক্ত কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের সাথে সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মো. শামীম উদ্দিন খান ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. হাশমত আলী।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত