চলতি মাসের শেষের দিকে শুরু হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। উৎসবকে ঘিরে নাশকতা প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশেষ সভায় ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। বুধবার দুপুরে অনলাইনে অনুষ্ঠিত এ সভায় আট বিভাগের কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপাররা অংশ নেন। সভায় জাতীয় নির্বাচনকেও সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনকে সচেতন থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৮ দফা নির্দেশনা:
১. পূজা চলাকালে পুলিশ, র্যাব, আনসার ও ভিডিপির টহল জোরদার এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনী সহায়তা দেবে।
২. যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে পূর্বপ্রস্তুতি ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
৩. স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করতে হবে।
৪. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বা গুজব রোধে সতর্ক থাকতে হবে।
৫. প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক ও পাহারাদার নিয়োজিত করতে হবে।
৬. প্রতিটি পূজামণ্ডপে সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক।
৭. নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করতে হবে।
৮. সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে মনিটরিং কমিটি গঠন করতে হবে।
৯. পূজা উদযাপন কমিটিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিদ্যুৎ বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে হবে।
১০. সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মোবাইল নম্বর দৃশ্যমান স্থানে ও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।
১১. সন্দেহজনক ব্যাগ বা বস্তু নিয়ে প্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি বাড়াতে হবে এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
১২. প্রতিমা ভাঙচুর ঠেকাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
১৩. প্রতিমা বিসর্জনস্থল ও মণ্ডপে পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করতে হবে, নারী দর্শনার্থীদের জন্য আলাদা স্বেচ্ছাসেবক রাখতে হবে।
১৪. নারী দর্শনার্থীদের হয়রানি ও ইভটিজিং রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
১৫. আতশবাজি ও পটকা পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।
১৬. বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলো ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখতে হবে।
১৭. বিসর্জনের সময় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল স্ট্যান্ডবাই থাকতে হবে।
১৮. যেসব মণ্ডপে যাওয়ার রাস্তা খারাপ, সেগুলো সাময়িকভাবে মেরামত করতে হবে।


