চট্টগ্রাম শহরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্ণফুলী নেভিগেশন চ্যানেলসহ আওতাধীন বিভিন্ন খালে নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে খাল ও নালার মুখে ভেসে আসা প্লাস্টিক ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য অপসারণ করে পানি প্রবাহ সচল রাখা হচ্ছে এবং শহরের জলাবদ্ধতা কমানো হচ্ছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষ করে রাজাখালী খাল, চাক্তাই খালসহ চট্টগ্রাম শহরের সাথে কর্ণফুলী নদীর সংযুক্ত বিভিন্ন খালের মুখে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ ও ড্রেজিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে রাজাখালী খালের মুখে মাটি ও বর্জ্য অপসারণ করে ২–৩ মিটার গভীরতা আনা হয়েছে এবং খাল থেকে নদী পর্যন্ত পানির প্রবাহ নির্বিঘ্ন রাখা সম্ভব হয়েছে।
কর্ণফুলী নদীর মূল চ্যানেলে ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি খালগুলোতে বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে বন্দর কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাব ড্রেজারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে খালের সম্মুখভাগে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে খালের অভ্যন্তরে পানির স্বাভাবিক গতি বজায় থাকে এবং শহরের ব্যবহৃত পানি নির্বিঘ্নে নদীতে পতিত হচ্ছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, এ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং শহরের বিভিন্ন খাল ও নদীর নাব্যতা রক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। তারা নগরবাসীকে সতর্ক করে বলেছেন, খাল, নালা ও নদীতে সরাসরি বর্জ্য না ফেলে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। নগরবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগের ফলে শহরের পানির প্রবাহে স্বাভাবিকতা ফিরে আসছে এবং দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের নিয়মিত ড্রেজিং ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শহরের জলাবদ্ধতা কমানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


