বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার পরও ভারত তাকে ফেরত দিতে অনীহা দেখাচ্ছে। তবে আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হলে ভিন্ন পরিস্থিতি হতে পারে।
তিনি বলেন, “ভারত শেখ হাসিনাকে পুরো সময় সহযোগিতা করে আসছে। তারা এখনও আশা করছে, তিনি হয়তো বিজয়ীর বেশে বাংলাদেশে ফেরত আসবেন।”
ব্রিটিশ-আমেরিকান সাংবাদিক ও জেটিওর প্রতিষ্ঠাতা মেহেদি হাসানকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে গিয়ে নিউইয়র্কে এই সাক্ষাৎকারে অংশ নেন ড. ইউনূস।
প্রশ্ন: শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার খবরের রাতটি আপনার কাছে কেমন ছিল?
ড. ইউনূস: সেটি ছিল খুবই উত্তেজনাপূর্ণ একটি রাত। আমি ভাবিনি এত দ্রুত পরিবর্তন আসবে। হঠাৎ করেই সবকিছু ঘটে গেল। ছাত্র আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর পর শিক্ষার্থীরা আমাকে আহ্বান জানাল। প্রথমে আমি রাজি হইনি। কিন্তু তাদের ত্যাগ ও দৃঢ়তা দেখে শেষ পর্যন্ত আমি দায়িত্ব নিতে রাজি হই।
প্রশ্ন: আপনাকে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে আসতে অনুরোধ করা হলে আপনার প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
ড. ইউনূস: প্রথমেই আমি না বলেছিলাম। কারণ আমি কখনোই রাজনীতি করতে চাইনি। কিন্তু পরে শিক্ষার্থীরা এসে বলল, “আমরা জীবন দিয়েছি, আপনি যদি না আসেন তবে এ আন্দোলনের ফল শূন্য হবে।” তখন আমি আর না করতে পারিনি।
প্রশ্ন: আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়ে সমালোচনা হচ্ছে। কেন এই সিদ্ধান্ত?
ড. ইউনূস: আমরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করিনি। কেবল তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছি। নিবন্ধন এখনও বহাল আছে। পরিস্থিতি অনুকূল হলে ভবিষ্যতে এ সিদ্ধান্ত তুলে নেওয়া হবে।
প্রশ্ন: শেখ হাসিনা এখন ভারতে আছেন। তাকে ফেরত আনার বিষয়ে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
ড. ইউনূস: আমরা ভারতকে বলেছি তাকে ফেরত পাঠাতে। কিন্তু তারা তা করতে চাইছে না। তারা এখনো আশা করছে শেখ হাসিনা আবার শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবেন। মোদি আমাকে বলেছেন, “সামাজিক মাধ্যমকে আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।” অর্থাৎ তারা তাকে আশ্রয় দিচ্ছে, কিন্তু ফেরত দেওয়ার জন্য কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
প্রশ্ন: অনেকেই বলছেন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সরকারি হস্তক্ষেপ হচ্ছে। আপনার অবস্থান কী?
ড. ইউনূস: আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু কিছু গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করছে। তবুও আমরা চাই জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুক।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?
ড. ইউনূস: এসব মূলত ভুয়া খবর। বাংলাদেশে মুসলমান ও হিন্দুদের মধ্যে জমি বা পারিবারিক বিরোধ থাকে, কিন্তু এটিকে সাম্প্রদায়িক সংঘাত বলা যাবে না। আমরা এ ধরনের ভুয়া প্রচারণা রুখতে সতর্ক আছি।
প্রশ্ন: গণঅভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন ছিল?
ড. ইউনূস: প্রথমে কিছুটা বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। অভ্যুত্থানের পর সবকিছু ভেঙে পড়েছিল। তবে এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতা ফিরছে। জনগণ শান্তি চায়, আর আমরা সেটি ফিরিয়ে আনছি।
প্রশ্ন: আপনার ভূমিকা কতদিন পর্যন্ত থাকবে?
ড. ইউনূস: নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত আমি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে থাকব। তারপর আমি সরে দাঁড়াবো। তবে অবসর নেব না— দেশের কল্যাণে অন্যভাবে কাজ চালিয়ে যাব।


