রাঙামাটি শহরের বহুল পরিচিত কসমস আবাসিক হোটেল ও কসমস রুফটপ রেস্টুরেন্ট এবং মায়ের দোয়া নার্সারির মালিক এ.কে.এম সালাহ উদ্দিন (৪৫)-কে তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন রাঙামাটির চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে কোতয়ালী থানা পুলিশ গ্রেফতারকৃত সালাহ উদ্দিনকে আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে, আসামির রিমান্ডের আবেদন করা হলে ওই আবেদনটির শুনানি আগামী রোববার (২ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
মামলার এজাহারে যা বলা হয়
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) মধ্যরাতে ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি রাঙামাটি শহরের একটি সংস্থায় স্বাস্থ্যসেবায় কর্মরত। আসামি এ.কে.এম সালাহ উদ্দিন তার পরিচিত ব্যক্তি। তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে গাউছিয়া মার্কেট এলাকার ইসলামী ব্যাংকের নিচতলায় অবস্থিত একটি কক্ষে ডেকে নেন।
ওই কক্ষে নিয়ে সালাহ উদ্দিন প্রথমে কথোপকথনের একপর্যায়ে তরুণীর গায়ে হাত দেন এবং বোরকা খুলে ফেলার চেষ্টা করেন। তরুণী চিৎকার করলে তিনি শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন, পরে অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এরপর ওই তরুণীর নগ্ন ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের হুমকি দেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাকে কক্ষে তালাবদ্ধ করে প্রায় দুই ঘণ্টা বাইরে থাকার পর সালাহ উদ্দিন আবার ফিরে এসে দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করেন।
পুলিশ ও হাসপাতালের তথ্য
কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাহেদ উদ্দিন জানান, “ঘটনার পরপরই ভিকটিম থানায় এসে বিস্তারিত বর্ণনা দেন। আমরা তাকে দ্রুত রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠাই। পরে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সালাহ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়।”
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩/২০২০/২০২৫) এর ৯(১), পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ৮(১)/৮(২), এবং দণ্ডবিধির ৩৪২/৩২৩/৫০৬ ধারা অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “প্রাথমিক পরীক্ষায় মেয়েটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিস্তারিত জানতে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে।”
অতীতের অভিযোগ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সালাহ উদ্দিনকে এর আগেও এক কলেজ শিক্ষার্থীর দায়ের করা যৌন হয়রানির মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। ওই শিক্ষার্থীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি।
এছাড়া আরও কয়েকজন তরুণীর কাছ থেকেও কুপ্রস্তাব ও বেতন সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে অনেকেই সামাজিক লজ্জার ভয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করতে সাহস পাননি।


