কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের খোদাইবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলমগীরের বিরুদ্ধে অবৈধ লেনদেন ও উৎসবিহীন সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
নির্দিষ্ট কোনো পেশা না থাকলেও আলমগীর ও তাঁর স্ত্রীর নামে বিভিন্ন ব্যাংকে প্রায় ১৫ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুদক। এক বছর ধরে অনুসন্ধানের পর বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুদক এ মামলা দায়ের করে।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, দুদকের অনুসন্ধানের খবর পাওয়ার আগেই আলমগীর তাঁর সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নিরুদ্দেশ হয়ে যান।
দুদকের কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন এ অনুসন্ধানের নেতৃত্ব দেন এবং নিজেই মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট কোনো পেশা না থাকা সত্ত্বেও আলমগীর ও তাঁর স্ত্রীর নামে বিভিন্ন ব্যাংকের ২০টি হিসাবে মোট ১৪ কোটি ৯৩ লাখ ২৯ হাজার ৬০০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া, তিনি ১ কোটি ৬৫ লাখ ৪২ হাজার ৫৫১ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
মামলার বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “মোহাম্মদ আলমগীর একজন ধূর্ত ব্যক্তি। দুদকের অনুসন্ধানের খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ব্যাংক থেকে সব টাকা তুলে ফেলেছেন। তিনি নিজেকে রেমিট্যান্সযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে অবৈধ অর্থকে বৈধ দেখানোর চেষ্টা করেছেন। আমরা তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করেছিলেন এবং সে সুবাদে বিদেশে লোক পাঠানোর কাজেও জড়িত ছিলেন বলে এলাকাবাসীর ধারণা। তবে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ আলমগীরের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।


