রাঙামাটিতে পৃথক দুই ঘটনায় দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজন রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র নার্স সাথী বড়ুয়া (৩৪) এবং অন্যজন কাউখালীর ঘাগড়ায় পানিতে ডুবে মারা যাওয়া কিশোরী আর্যমিতা চাকমা (১৩)।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নার্সেস চেঞ্জিং রুম থেকে সিনিয়র নার্স সাথী বড়ুয়ার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। নিহত সাথী বড়ুয়া শহরের দেবাশীষ নগর এলাকার বাসিন্দা এবং দুই সন্তানের জননী। তিনি ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চাকরিতে যোগদান করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সাথী বড়ুয়া গত কয়েকদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে তার নাইট ডিউটি থাকলেও তিনি অসুস্থতার কারণে ছয় দিনের সিএল ছুটির আবেদন করেন। অনুমতি সাপেক্ষে তাকে মাসের শেষ তিনদিন নাইট ডিউটির জন্য বলা হয়। পরদিন ভোরে অসুস্থ অবস্থায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু অন্য সহকর্মীরা তাকে দেখতে গেলে তিনি বিরক্ত হন এবং জরুরি বিভাগের পাশের নার্সেস চেঞ্জিং রুমে (রুম নং–১৬) বিশ্রামের জন্য চলে যান।
কিছুক্ষণ পর ডিউটিতে থাকা সিনিয়র নার্স সাধনা চাকমা ওয়াশরুমের দরজা বন্ধ দেখে ধাক্কাধাক্কির পর দরজা খুলে জানালার সাথে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় সাথী বড়ুয়াকে ঝুলন্ত দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
রাঙামাটি কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাহেদ উদ্দিন বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আপাতত একটি ইউডি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে, রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে একই দিনে রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ঘাগড়ায় নদী পারাপারের সময় পানিতে ডুবে মারা গেছে ১৩ বছর বয়সী আর্যমিতা চাকমা। নিহত আর্যমিতা ঘাগড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের জুনুমাছড়া এলাকার শান্ত চাকমার মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে নদী পারাপারের সময় আর্যমিতা পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট কাউখালী থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


