বেশ কয়েকটি সংগঠনের তীব্র বিক্ষোভ ও দাবির মুখে অবশেষে রাঙামাটিতে বহুল আলোচিত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. কফিল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ স্থগিতাদেশের তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে— স্মারক নং ৩৮.০১.৮৪০০০০০৯৯.০০৬.২৫-১৫৪৬ অনুসারে জানানো যাচ্ছে, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের অধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য আগামী ১৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে নির্ধারিত লিখিত পরীক্ষা অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হলো। পরীক্ষার নতুন সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে।
প্রসঙ্গত, এই নিয়োগের মাধ্যমে রাঙামাটি জেলায় প্রায় ৯৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের কথা ছিল।
রাঙামাটি জেলা পরিষদের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য বৈশালী চাকমা জানান, “জেলা পরিষদের একান্ত সিদ্ধান্তে পরীক্ষাটি স্থগিত করা হয়েছে। কারও চাপে নয়, বরং প্রশাসনিক প্রয়োজনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তবে জেলা শহরজুড়ে জোরালো জনঅসন্তোষ ও বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলনের পরই এই সিদ্ধান্ত এসেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে স্মারকলিপি দিয়ে নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। জেলা পরিষদের সদস্য মিনহাজ মুরশিদ ও হাবিব আজমের মাধ্যমে স্মারকলিপিটি চেয়ারম্যানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, “সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চলমান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত, একতরফা ও বৈষম্যমূলক। বিজ্ঞপ্তিতে কোনো উপজেলা বা অন্যান্য কোটা স্পষ্ট করা হয়নি, এমনকি শুন্যপদের সংখ্যাও প্রকাশ করা হয়নি।”
সংগঠনগুলোর দাবি, সরকার ৭ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করলেও জেলা পরিষদ সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে ৭০ শতাংশ উপজাতি ও ৩০ শতাংশ বাঙালি কোটা অনুসারে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে— যা বৈষম্যমূলক ও বিতর্কিত।
এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের রাঙামাটি জেলা সভাপতি মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “বিতর্কিত নিয়োগ স্থগিত করায় জেলা পরিষদকে ধন্যবাদ জানাই। তবে তাদের উচিত হবে জনদাবি আমলে নিয়ে বাস্তবতার ভিত্তিতে জনসংখ্যানুপাতিক নিয়োগ ও পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে জনগণ প্রত্যাশা করে, সব পর্যায়ে বৈষম্যহীন ন্যায্যতা।”
অন্যদিকে, একটি সূত্র জানিয়েছে— রাঙামাটি জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের একটি প্রতিনিধি দলও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের অনুরোধ জানিয়েছিল। সাক্ষাতে চেয়ারম্যান জানিয়েছিলেন, বিষয়টি পার্বত্য উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


