বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

জামায়াতে ইসলামীর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় বড় চমক

নিজস্ব প্রতিবেদক :

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রায় এক বছর আগেই সব আসনে প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এতে সবচেয়ে বড় চমক ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ আসনে নতুন মুখ—যাদের মধ্যে তরুণদের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য। ঘোষণার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় এসব সম্ভাব্য প্রার্থী গণসংযোগে নেমে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন। তবে সেই প্রার্থী তালিকা যে চূড়ান্ত নয়—এ কথা দলটি আগেই জানিয়েছিল।

এবার আরও বড় ধরনের চমক নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে যাচ্ছে জামায়াত। দলীয় সূত্র বলছে, প্রার্থী তালিকায় এবার বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, আলেম, পেশাজীবী, নারী নেতৃত্ব এবং চার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদে নির্বাচিত তরুণদেরও স্থান দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার আগেই, অর্থাৎ ডিসেম্বরের প্রথম দিকেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার প্রস্তুতি চলছে। আন্দোলনরত আট দলের সঙ্গে আসন সমঝোতাকে অগ্রাধিকারে রেখে এই তালিকা নির্ধারণ করবে জামায়াত।

গত ৪ নভেম্বর ওমরাহ পালন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা এক বছর আগেই আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রার্থী তালিকা জানিয়েছি। চূড়ান্ত তালিকা যথাসময়ে কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হবে।” একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার-মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি জানান, ডিসেম্বরের শুরুতেই অথবা তফসিলের আগে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং আগের তালিকায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।

দলীয় বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী তালিকায় আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বৈচিত্র্য আনছে জামায়াত। তালিকায় হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আন্তরিক চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক, পেশাজীবী, নারী এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নির্বাচিত ছাত্রনেতাদেরও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এমনকি দলের বাইরের যোগ্য ব্যক্তিরাও জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা বা সমমনাদের প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ পেতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলীয় উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন সাপেক্ষেই হবে।

আগামী নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াত এখন ব্যাপক গুরুত্বে নিজেদের পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে। দলটির হাতে থাকা বিভিন্ন জরিপ ও মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, জামায়াতের প্রতি জনসমর্থন বাড়ছে বলেই তারা বিশ্বাস করে। সে অনুযায়ী দলটি এবার নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়ে কৌশল সাজাচ্ছে—যার মধ্যে রয়েছে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আসন সমতা, প্রার্থী নির্বাচনে বৈচিত্র্য আনা এবং মাঠপর্যায়ে সংগঠন সুসংহত করা।

গত সোমবার ঢাকায় দলের এক অনুষ্ঠানে আমির ডা. শফিকুর রহমান আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে “দেশ ও জাতির জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি সারাদেশে দলীয় প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করার আহ্বান জানান।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত