বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ বিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যেনতেন নির্বাচন নয়, এটা একটা যুগান্তকারী নির্বাচন, আমাদের কলংক মোচনের নির্বাচন। যিনি প্রার্থী হতে চান তিনি যেন প্রার্থী হতে পারেন, যিনি ভোট দিতে চান তিনি যাতে ভোট দিতে পারেন, যিনি ভোট দিয়েছেন তার ভোটটা যেন সঠিকভাবে হিসাব হয় এবং সেই ভোটে যাতে প্রকৃত যে বিজয়ী তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয় এটিই জাতির প্রত্যাশা। আগামী নির্বাচনে তাই নিশ্চিত করা হবে।
উপদেষ্টা শুক্রবার চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম হাই স্কুলের কৃতি ছাত্র সংবর্ধনা ও পূণর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা এ স্কুলের ১৯৬৮ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন।
ফাওজুল কবির বলেন, আগামী নির্বাচনে যে-ই বিজয়ী হয়, মানুষ যাকেই চায়, আমরা তার পেছনে জাতি হিসেবে দাঁড়াবো। যে দল কিংবা যাদেরকে মানুষ নির্বাচিত করে সংসদ সদস্য হিসেবে কিংবা যারা দেশের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী হবেন-আমরা তাদের পেছনে দাঁড়াবো। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এজন্য যা কিছু করার সবকিছু আমরা করে দিয়েছি। এখন বাকি সব আপনাদের হাতে। নির্বাচন কমিশন ও আপনাদের হাতে। আপনারা নিশ্চিত করবেন যাতে এ নির্বাচনটা ঐতিহাসিক নির্বাচন হয়। আগের নির্বাচনগুলোর যে গ্লানি, জাতি তা যেন মুছে ফেলতে পারে। কলংকমুক্ত আগামী নির্বাচন সম্পন্নের জন্য উপদেষ্টা এসময় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে স্কুলের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার জি.পি.এ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র সমিতি এ সংবর্ধনার আয়োজন করে।
উপদেষ্টা সংবর্ধিতদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ সংবর্ধনা তাদের আরো বড় হতে উদ্বুদ্ধ করবে, তাদের বড় অর্জনে সহায়ক হবে। তিনি কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন ও উৎপাদন এ দুইয়ের উপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন।
স্কুলের পক্ষ থেকে ডরমেটরিসহ হোস্টেল সুবিধা আধুনিকায়ণ, প্রধান শিক্ষকের বাসভবন নির্মাণ প্রভৃতি দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, দাবিগুলো আমার আওতাধীন নয়, তবে দাবির বিষয় আমি শিক্ষা উপদেষ্টাকে জানাবো। স্কুলের কৃতি ছাত্রদের বৃত্তি দেওয়ার জন্য একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠিত হলে তার টাকা যোগাড় করে দেবেন বলে তিনি এসময় প্রতিশ্রæতি দেন।
প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সভাপতি শাহ আলম বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে একুশে পদক প্রাপ্ত সাংবাদিক ও দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, প্রাক্তন ছাত্র প্রফেসর সিকান্দার হায়াত খান, প্রাক্তন ছাত্র ও একুশে পদক প্রাপ্ত শিল্পী ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম, প্রাক্তন ছাত্র বিশিষ্ট চিকিৎসক প্রফেসর ডা. ইমরান বিন ইউনূস, প্রধান শিক্ষক মোরশেদুজ্জামান ও কয়েকজন সংবর্ধিত ছাত্র বক্তৃতা করেন।


