বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন। দলটির নেতারা জানিয়েছেন— ‘কিছুটা উন্নতি’ দেখা দিলেও তার অবস্থাকে এখনো স্থিতিশীল বলা যাচ্ছে না। সংকটাপন্ন অবস্থার মধ্যেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমান শারীরিক অবস্থায় বিদেশ নেওয়া নিরাপদ নয়। অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে বিদেশে নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

বিএনপির সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য লন্ডনকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে আরও কয়েকটি দেশ বিবেচনায় রয়েছে। এ জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, ভিসাসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি প্রাথমিকভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।

এদিকে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় সহায়তা দিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। দেশের বর্ষীয়ান এই নেত্রীর শারীরিক অবস্থা অবনতির খবরে সারাদেশে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। মসজিদে মসজিদে কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনার আয়োজন করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অসংখ্য মানুষ তার রোগমুক্তি কামনা করে পোস্ট দিচ্ছেন।

দেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর প্রতি দোয়া চেয়েছেন। দলমত নির্বিশেষে নানা শ্রেণি–পেশার মানুষ তার শারীরিক অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। লন্ডনে অবস্থানরত তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সার্বক্ষণিক চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং দেশবাসীর দোয়া ও উদ্বেগ জানানোয় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুসে সংক্রমণজনিত শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। এর পাশাপাশি কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো জটিলতা বাড়াচ্ছে। ফলে একটি রোগের চিকিৎসা শুরু করলে অন্যটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলে যাচ্ছে—এমন পরিস্থিতিতে তাকে কিছুদিন আগে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেওয়া হয়।

অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তিনি এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞরাও ভার্চুয়ালি নিয়মিত বোর্ডের আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। লন্ডন থেকে ডা. জুবাইদা রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরাও চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিগত সরকারের সময় ‘ফ্যাসিস্ট’ শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই খালেদা জিয়ার আজকের এই শারীরিক অবস্থা তৈরি হয়েছে। দলটি অভিযোগ করেছে, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার শাসনামলে কারাবন্দী অবস্থায় খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জনিং করে হত্যার চেষ্টা’ করা হয়েছিল—যা তারা রাজনৈতিক নিপীড়নের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত