মাদকের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রুপম চৌধুরী (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ কোটি ২৬ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত রুপম চৌধুরী বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী এলাকার দয়াল চৌধুরীর ছেলে। বর্তমানে তিনি নগরের হালিশহর মধ্যম নাথপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালে একটি দৈনিকে ‘ইয়াবা রূপম’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি আমলে নেয়। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে রুপম চৌধুরী ও তার স্ত্রী সন্ধ্যা চৌধুরীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়।
এরপর ২০২১ সালে দুদক তাদের পৃথকভাবে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেয়। নির্ধারিত সময়ে রুপম চৌধুরী সম্পদ বিবরণী দাখিল করলেও যাচাই-বাছাইয়ে উল্লেখযোগ্য তথ্য গোপনের বিষয়টি উদ্ঘাটিত হয়।
দুদকের আইনজীবী মোকাররম হোসেন জানান, মাদকের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত রুপম চৌধুরীকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। একইসঙ্গে তাকে ২ কোটি ২৬ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এর আগে একই আদালত গত ১৩ এপ্রিল মাদক কারবারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অন্য একটি মামলায় রুপম চৌধুরী ও তার স্ত্রী সন্ধ্যা রানী চৌধুরীকে ৪ বছর করে কারাদণ্ড দেন।
জানা গেছে, দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে রুপম চৌধুরী ৩৮ লাখ ২৩ হাজার ৪৩৯ টাকার স্থাবর ও ২৬ লাখ ৮৩ হাজার ৩৯১ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৬৫ লাখ ৬ হাজার ৮৩০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেন। এছাড়া তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১ কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার ৮৩০ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।


