বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

৬ হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপি, কারাগারে নূরজাহান গ্রুপের রতন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

গ্রেফতার হওয়া দেশের শীর্ষস্থানীয় ঋণখেলাপী নূরজাহান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জহির উদ্দিন আহমেদ রতনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে রতনকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটায় ঢাকা মহানগরের ভাটারা থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রতনকে গ্রেফতারে নেতৃত্ব দেন কোতোয়ালি থানা পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. নূরুল বাশার।

সাজা ও গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামী জহির উদ্দিন আহমেদ রতন কোতোয়ালি থানাধীন রামজয় মহাজন লেইনের ওসমান মঞ্জিলের হাজী আব্দুল খালেক এর ছেলে।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম ওবায়েদুল হক বলেন, ‘নূরজাহান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ রতনকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সিএমপির কোতোয়ালি, পাঁচলাইশ, পাহাড়তলী ও খুলশী থানায় মোট ২৬টি সিআর সাজা ও ৩৫টি সিআর গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ সর্বমোট ৬১টি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।’

জহির উদ্দিন আহমেদ রতন নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
ম্যারিন ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, তাসমিন প্রপার্টিজ এন্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেসার্স খালেক এন্ড সন্স এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মারবীন ভেজিটেবল অয়েলস লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জাসমির সুপার অয়েল লিমিটেড এবং তাসমিন প্রপার্টিজ এন্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

পুলিশ জানায়, রতন গত ২০১১ সাল থেকে অগ্রণী ব্যাংক, রুপালী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে অর্থ পরিশোধ না করে আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ রতনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত মামলার শুনানী শেষে আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদানসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত আসামিকে দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন। সাজা থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিল।

চট্টগ্রাম অর্থ ঋণ আদালত বেঞ্চ সহকারী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘নুর জাহান গ্রুপের এমডি জহির আহমেদ রতনের বিরুদ্ধে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা খেলাপী ঋণ আছে। তিনি দেশের শীর্ষ ঋণখেলাপিদের একজন। রতন চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ভোগ‍্যপন‍্য ব‍্যবসা করতেন। ২০১১-২০১২ সালে এসব ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। অগ্রণী ব‍্যাংক, জনতা ব‍্যাংক, কমার্স ব‍্যাংক, সাউথ ইষ্ট ব‍্যাংকসহ আরো বিভিন্ন ব‍্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করে নি। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা চলমান রয়েছে। অর্থঋণ আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ দেশ ত‍্যাগের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছেন।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত