বান্দরবানের লামার প্রদীপ কান্তি দাশের রাতারাতি আর্থিক ও রাজনৈতিক উত্থান স্থানীয়দের কাছে বিস্ময়কর। এক দশক আগে সাধারণ দর্জি হিসেবে সংসার চালানো এই মানুষটি আজ শত কোটি টাকার মালিক। বিলাসবহুল গাড়ি, একাধিক বাড়ি-ফ্ল্যাট এবং লামা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও পরিচিত তিনি। ২০১৯ সালে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয় করে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
স্থানীয়রা তার সম্পদের উত্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অভিযোগ, প্রদীপ কান্তি দাশের বিপুল সম্পদের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব ও নানা অনিয়ম রয়েছে।
জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে পারিবারিক দারিদ্র্যের কারণে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থেকে লামায় আসেন প্রদীপ। প্রথমে স্থানীয় দর্জির দোকানে কাজ শুরু করেন, পরে শুভ বস্ত্রালয়ে সেলাই করতেন। সংসার চালাতে হিমশিম খেতেন তিনি। ২০০৪ সালে ছাত্রলীগে যোগ দিয়ে রাজনীতির পথে যাত্রা শুরু করেন। ২০১২ সালে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়া তার ভাগ্য বদলাতে শুরু করে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক পদকে হাতিয়ার করে তিনি জমি দখল, ঠিকাদারি ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছেন। আয়কর ফাইলে মাত্র ১৩ লাখ টাকার ব্যবসায়িক সম্পদ ও ১১টি খতিয়ান দেখালেও অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে ৩০টির বেশি জমির দলিল। ইয়াংছা, ফাইতং, ছাগলখাইয়া ও বড় বুম মৌজায় শত শত শতক জমি তার নামে বা বায়না দলিলে রয়েছে। এছাড়া ৩০ ভরি স্বর্ণের হিসাবও তিনি মাত্র ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকায় দেখিয়েছেন, যা বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিক কম।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, লামা ও আলীকদম উপজেলায় প্রদীপ কান্তির নামে ও বেনামে প্রায় শত কোটি টাকার জমি রয়েছে। গত পাঁচ বছরে লামায় অন্তত ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার জমি কিনেছেন। ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করেছেন একাধিক ইটভাটা। লামা পৌরসভার বাজারে কোটি টাকার প্লট এবং চট্টগ্রামে একাধিক ফ্ল্যাটও তার রয়েছে।
জমির দলিল ঘেঁটে দেখা গেছে, ছাগলখাইয়া মৌজায় ৩১৭/১৬ নং বায়না দলিলে ৩ শতক, ৩৬১/১৮ নং দলিলে ২৭ শতক এবং ১০২৬/১৯ নং দলিলে ২৭ শতক জমি তার নামে রয়েছে। একই মৌজায় আরও ছয়টি দলিলে যথাক্রমে ৯০, ৪০, ২৯, ২০, ৩৮ এবং ২০ শতক জমি তার নামে আছে। ছোট বুম মৌজায় ৩১৮/১৮, ৩২০/১৮ ও ৫০০/১৮ নং দলিলে যথাক্রমে ৫৩, ৫৫ ও ৯০ শতক, বড় বুম মৌজায় ৬৯৪/১৮, ৩৯০/২০, ৩৯২/২০, ৬৯৮/১৮, ৫৫১/১৯, ৫৫২/১৯, ৫৫৩/১৯ এবং ৫৫৪/১৯ নং দলিলে ৩৩ থেকে ১০০ শতক জমি তার নামে রয়েছে। ইয়াংছা মৌজায় ৪১৮/২০, ৮৮৩/২২, ৮৮৪/২২, ৮৪/২৩ ও ৪৮/২৩ নং দলিলে ১০ থেকে ৯৮০ শতক পর্যন্ত জমি তার নামে আছে।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, প্রদীপ কান্তি দাশ নিজেকে সাবেক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিংয়ের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিতেন। তার এই বিস্তৃত সম্পদ ও রাজনৈতিক উত্থানকে ঘিরে লামা এলাকায় তীব্র আলোচনা ও প্রশ্নের ঝড় বইছে।


