বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

ডাকসু নির্বাচনে ষড়যন্ত্রের আভাস দেখছেন মির্জা আব্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে নির্বাচিতদের অভিনন্দন জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস বলেছেন, “তবে আমার তো হিসাব মিলে না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতে ইসলামী এত ভোট কোত্থেকে আসলো? আমি বলতে চাই না কারচুপি হয়েছে, তবে দেশে একটা গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস পাচ্ছি।”

আজ বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর দি কিং অব চিটাগাং মিলনায়তনে বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের স্মরণে আয়োজিত শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও শোকসভা প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার।

মির্জা আব্বাস অভিযোগ করে বলেন, “আমরা যখন বিভিন্ন দলের সঙ্গে বসি, জামায়াত নেতারা বারবার বলেন— আওয়ামী লীগকে আর ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না। অথচ তারা তলে তলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের সব ভোট জামায়াতকে দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে। কারণ বিএনপিই একমাত্র দল, যার হাতে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের জানমাল নিরাপদ। অথচ আওয়ামী লীগ নানা সময়ে বিএনপির সঙ্গে মিলেমিশে অপকর্ম করছে, আবার জামায়াতের সঙ্গেও আঁতাত করছে। এর সব দায় চাপানো হচ্ছে বিএনপির ওপর।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে মির্জা আব্বাস বলেন, “বিএনপিতে কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা দখলদারের স্থান হবে না। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, বিএনপি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দল। এখানে চাঁদাবাজি বা দখলদারির জায়গা নেই। যারা মঞ্চে এসবের বিরুদ্ধে কথা বলে পরে নিজেরাই অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ান, তারা বিএনপির আসল কর্মী নন। ডাকসু নির্বাচন থেকে বিএনপির শিক্ষা নেওয়া উচিত কিভাবে “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং” করা হয়।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “তখনও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছিল। খালেদা জিয়া অংশ নিতে চাননি। জামায়াত নেতা মুজাহিদ জোর করায় অংশ নিতে হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে জামায়াতের কয়েকজন নেতার ফাঁসি হয়, আর আমাদের থেকে কেড়ে নেয়া হয় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে।”

প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমান সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে মির্জা আব্বাস বলেন, তিনি ছিলেন সৎ, নির্লোভ ও নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিক। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। দলের জন্য তার অনেক পাওনা ছিল, যা যথাযথভাবে আদায় করা হয়নি।

শোকসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, প্রয়াত নোমানের সন্তান জাতীয়তাবাদী পাঠ শ্রমিক দলের সভাপতি সাঈদ আল নোমান, বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল বড়ুয়া, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. নছরুল কদির, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার ছিদ্দিকুর রহমানসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত