চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র এবার হবে প্রশাসনিক ভবনের আশপাশের অনুষদগুলোতে। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান চাকসু নির্বাচন কমিশন। একইসঙ্গে কমিশন ১৭ দফা আচরণবিধিও প্রকাশ করে।
সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, “গত নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র রাখা হয়েছিল ল্যাবরেটরি স্কুলে। প্রশাসনিক ভবনের কাছে হওয়ায় তখন সেখানে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার অনুষদগুলোতেই ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি কোনো সাদা বা কালো দলে বিশ্বাস করি না। আমাকে যখন নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমি আশ্বস্ত করে বলতে চাই—গঠনতন্ত্র মেনে নির্বাচন পরিচালনা করা হবে। কোনো দলের এজেন্ট হিসেবে কাজ করবে না নির্বাচন কমিশন।”
চাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য-সচিব প্রফেসর ড. এ কে এম আরিফুল হক সিদ্দিকী জানান, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গঠনতন্ত্রে কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—দপ্তর সম্পাদক পদে নারী প্রার্থী রাখার বিধান সংযোজন এবং এমফিল ও পিএইচডি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ৩০ বছরের বয়সসীমার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া। ইতোমধ্যে এসব সংশোধনী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মু. জাফর উল্লাহ তালুকদার, ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সের অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদ, শহীদ আব্দুর রব হলের প্রভোস্ট ও কমিশনের সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. এ কে এম আরিফুল হক সিদ্দিকী, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল হক, শামসুন্নাহার হলের প্রভোস্ট ড. বেগম ইসমত আরা হক এবং অধ্যাপক ড. আমির মুহাম্মদ নসরুল্লাহ।
উল্লেখ্য, প্রায় তিন যুগ পর আগামী ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চাকসু নির্বাচন। ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথম চাকসু নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালে। প্রতি শিক্ষাবর্ষে এ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়বার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচন হয় ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি।


