বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

৮ মাসে কুমিল্লা অংশেই নিহত ১৬২, আহত আড়াই শতাধিক

‘অর্থনীতির লাইফ লাইন’ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

‘অর্থনীতির লাইফ লাইন’ খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কোনোভাবেই থামছে না দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। পাশাপাশি দুর্ঘটনা ঘটলেই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা, ব্যাহত হচ্ছে অর্থনীতির গতি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়ক ব্যবস্থাপনার ঘাটতিই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানির অধিকাংশ পণ্য পরিবহন হয় এই মহাসড়ক দিয়ে। জাতীয় এ সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা হয় ২০১৬ সালে, উদ্দেশ্য ছিল নিরাপদ যোগাযোগ ও যানজটমুক্ত চলাচল নিশ্চিত করা। কিন্তু নয় বছর পেরিয়ে গেলেও মহাসড়ক নিরাপদ হয়নি, বরং বেড়েছে দুর্ঘটনা।

কেবল কুমিল্লা অংশেই গেল আট মাসে ২১৭টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৬২ জন, আহত হয়েছেন ২৫০ জনেরও বেশি। মহাসড়কের ৫৪টি ইউটার্ন এখন দুর্ঘটনার হটস্পট। প্রতিটি ইউটার্নই যেন মৃত্যুফাঁদ।

সার্ভিস লেন না থাকায় মহাসড়কে চলাচল করছে নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলারসহ বিভিন্ন যানবাহন। উল্টো পথে যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল, অবৈধ পার্কিং ও যত্রতত্র টিকিট কাউন্টার দুর্ঘটনা ও যানজটকে আরও তীব্র করছে।

পরিবহন মালিকরা দুর্ঘটনার জন্য সড়ক ব্যবস্থাপনার অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন। শ্রমিক নেতাদের মতে, অদক্ষ চালক এবং বিআরটিএর সঠিক প্রশিক্ষণের অভাবও দুর্ঘটনা বাড়াচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ কবির আহমেদ বলেন, “আমাদের কোনো নীতিমালা নেই। আপনি এখনই ৫০টি গাড়ি কিনলে পরদিন থেকে রাস্তায় নামাতে পারবেন। পৃথিবীর কোথাও এমন ব্যবস্থা নেই। ফিজিবিলিটি যাচাই না করেই এখানে গাড়ি নামানো হয়।”

কুমিল্লা শ্রমিক পরিবহন ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক কামরুল ইসলাম টিপু বলেন, “অদক্ষ চালকের সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ। দক্ষ চালকেরা পর্যাপ্ত পারিশ্রমিক না পেয়ে বিদেশে চলে যাচ্ছেন। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।”

হাইওয়ে পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিআইজি খায়রুল আলম বলেন, “মহাসড়কের দুপাশে সার্ভিস লেন থাকার কথা ছিল, কিন্তু নেই। হোটেলের জন্য তৈরি ইউটার্নগুলোই মূলত দুর্ঘটনার কারণ। এসব ইউটার্ন বন্ধ করতে পারলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।”

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়সার বলেন, “চার লেনের সড়কটি সুপরিকল্পিত নয়। সার্ভিস লেন নেই, ফলে থ্রি-হুইলারও একই সড়কে চলছে। দুর্ঘটনা কমাতে অবশ্যই আলাদা সার্ভিস লেন করতে হবে।”

স্থানীয়রা বলছেন, নিয়ম ভাঙার খেলায় প্রতিদিনই ঝরছে প্রাণ। বড় দুর্ঘটনার পরই কেবল সড়ক ব্যবস্থাপনার ঘাটতি স্পষ্ট হয়। তারা মনে করছেন, দ্রুত উদ্যোগ না নিলে দেশের অর্থনীতির প্রাণরেখা এই মহাসড়ক আরও বেশি ভয়াবহ হয়ে উঠবে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত