বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির নেতৃত্বে আসছে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা! 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্ব কার হাতে যাচ্ছে, তা নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। শুধু উত্তর জেলার নয়, দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও এ বিষয়ে আগ্রহ দেখা দিয়েছে।

দলীয় সূত্র বলছে, উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। সৎ ও দক্ষ নেতৃত্বের অধিকারী হিসেবে তার হাতেই দায়িত্ব যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, কমিটি বিলুপ্তি ও সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে নতুনভাবে দলকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে একাধিক নাম— লায়ন আসলাম চৌধুরী, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ হালিম ও ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনসহ আরও কয়েকজন। তবে শোনা যাচ্ছে, আসলাম চৌধুরী এ পদে আসতে রাজি নন। বিকল্প হিসেবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন ব্যারিস্টার শাকিলা।

ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের প্রাক্তন চিফ হুইপ মরহুম সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কন্যা। তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সিনিয়র নেতাদের মতে, বছরের পর বছর অচল অবস্থায় থাকা উত্তর জেলাকে পুনরায় সক্রিয় করতে শাকিলার মতো গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই।

কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য নেতৃত্বদের সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত ভূমিকা, গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার যোগ্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এজন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। কমিটির দায়িত্বে আছেন কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাউজান সংঘর্ষের পর নতুন নেতৃত্ব গঠনের বিষয়টি আরও জরুরি হয়ে পড়েছে। গত ৩০ জুলাই রাউজানের সর্তারঘাট এলাকায় গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খন্দকার অনুসারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন এবং গুলিবিদ্ধ হন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও তৎকালীন আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকার।

এই ঘটনার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি। উত্তর জেলা আহ্বায়ক কমিটি বাতিল করা হয়, গিয়াস কাদের চৌধুরীর ভাইস চেয়ারম্যান পদ স্থগিত করা হয় এবং আরও পাঁচ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। দলের অভ্যন্তরে এটি ছিল বড় ধরনের সাংগঠনিক ধাক্কা। এর পরিপ্রেক্ষিতেই নতুন করে নেতৃত্ব পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।

সবশেষে দলীয় সূত্র বলছে, তদন্ত কমিটির সুপারিশ ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই খুব শিগগিরই ঘোষণা আসবে নতুন নেতৃত্বের। আর সেই ঘোষণায় ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানার নাম উঠে আসার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত