বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

সন্ত্রাস-অপরাধে ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা

নগরে থানা থেকে লুট হওয়া ১৫৫টি আগ্নেয়াস্ত্র এখনও নিখোঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশ ইউনিটগুলোতে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সময় চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও বক্স থেকে লুট হওয়া ৯৪৮টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ৭৯৩টি উদ্ধার হলেও ১৫৫টি অস্ত্র এখনও নিখোঁজ রয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কর্মকর্তারা বলছেন, এসব নিখোঁজ অস্ত্র রয়েছে নগরে অপরাধচক্র ও রাজনৈতিক সহিংসতায় ব্যবহৃত হওয়ার উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে এবং সন্ত্রাস, ডাকাতি ও সশস্ত্র হামলার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

সিএমপি’র একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ৫ আগস্ট ঘটনার পর চট্টগ্রামের ১৮টি থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হয়। ওই সময় থেকে শুরু হওয়া বিশাল অগ্নিসংখ্যানই আজকের উদ্বেগের মূল। কেবল ৪ ও ৫ আগস্টেই লুট হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানত টুয়েলভ বোর শটগান, চায়না রাইফেল, নাইন এমএম পিস্তল, এসএমজি-টি, এলএমজি-টি, গ্যাস গান এবং টিয়ারগ্যাস লঞ্চার। সিএমপি পরিসংখ্যান অনুযায়ী লুট হওয়া অস্ত্রের ধরনগুলো হচ্ছে—টুয়েলভ বোর শটগান ৪১৪টি, চায়না রাইফেল ১০৫টি, চায়না এসএমজি-টি ৬২টি, চায়না এলএমজি-টি ১টি, চায়না পিস্তল ৪৫টি, নাইন এমএম পিস্তল ১১০টি, নাইন এমএম এসএমটি ৩টি, সিঙ্গেল শট গ্যাস গান ২০৩টি ও টিয়ারগ্যাস লঞ্চার ৫টি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার তালিকায় আছে—৮৭টি চায়না রাইফেল, ৩৫৯টি টুয়েলভ বোর শটগান, ৬৮টি নাইন এমএম পিস্তল, ১৮৯টি গ্যাস গান, ৫৪টি এসএমজি-টি, চায়না পিস্তল ২৯টি, এসএমটি ৩টি, এলএমজি-টি ১টি এবং টিয়ার গ্যাস লঞ্চার ৩টি। সংশ্লিষ্ট হার কমাতে নিয়মিত রেড ও অপারেশন চললেও ১৫৫টি অস্ত্র নিখোঁজ থাকা এক বড় গ্যাপ হিসেবে রয়ে গেছে।

সিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মো. রইছ উদ্দিন বলেন, “নগরের অপরাধচক্র তাদের কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য নানা প্রক্রিয়ায় অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ করেছে। অস্ত্র উদ্ধারে কুইক রেসপন্স টিম এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। তবু নিখোঁজ অস্ত্রগুলো কার কাছে বা কোথায় আছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। নির্বাচনের আগে সব অস্ত্র উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।”

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ অস্ত্রগুলো শহরের বিভিন্ন অপরাধীচক্র, স্থানীয় সন্ত্রাসী অনুচ্ছেদ ও কখনো কখনো রাজনৈতিক সহিংসতায় ব্যবহার হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ২৮ আগস্ট বাগেরহাট মোংলা থেকে গ্রেপ্তারকৃত বিএনপি নেতা কামাল হাওলাদারের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত গুলি সেই লুট হওয়া তালিকার সাথে সম্পর্কিত ছিল—পুলিশ বলছে, ওই গুলিও চট্টগ্রামের কোনো থানা থেকে লুট করা হয়েছিল। এর আগেও চাঁদপুর, সাতকানিয়া, ডবলমুরিং ও পতেঙ্গা এলাকায় অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও কার্তুজগুলো লুট হওয়া তালিকায় নাম থাকা সংগঠিত অস্ত্রের অংশ বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী বলেন, “পুলিশের কাছে ভিডিও ফুটেজ ও তথ্য-প্রমাণ রয়েছে এবং গ্রেপ্তার আসামিরাও অনেক তথ্য দিচ্ছে। তবু অস্ত্র উদ্ধার না হলে আগামী নির্বাচনে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও এলাকায় শাসন-ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিয়ে বড় প্রশ্ন থাকবে।” তিনি আরও দাবি করেন, শুধু প্রতিক্রিয়ামূলক অভিযানে নির্ভর না করে সরাসরি ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ চালিয়ে যেকোনো অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অবশ্যই তৎপরতা বাড়াতে হবে।

নগরের সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা সতর্ক করে বলছেন—নির্বাচন আসন্ন অবস্থায় নিখোঁজ অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার না হলে তা নিরাপত্তার জন্য ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে তারা মামলা প্রক্রিয়া দ্রুততর ও অস্ত্র লুট-চুরি ঘটনার সময়হীন তদন্ত দাবি করেছেন, যেন ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা বজায় রাখা যায়।

পুলিশ বলছে— কুইক রেসপন্স টিম, রেড অপারেশন, নজরদারি বৃদ্ধি ও স্থানীয় স্তরে সম্প্রসারিত তথ্য-নির্ভর অভিযান জোরদার করে তারা অস্ত্র উদ্ধারে তৎপর রয়েছে। সরকারের ও নাগরিক সমাজের সহযোগিতায়, পাশাপাশি জনগণের সহায়তাও পেলে লুট হওয়া অবৈধ অস্ত্র দ্রুত জরিপে ধরা পড়বে এবং সেগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজে লাগানো সম্ভব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত