বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে লাইফগার্ড সেবা বন্ধ হচ্ছে, বিপাকে ৩৫ কর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বিপদাপন্ন পর্যটকদের উদ্ধার ও সচেতনতা সেবা দিয়ে আসা বেসরকারি সংস্থা সি-সেইফ লাইফগার্ডের কার্যক্রম আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তহবিল সংকটের কারণে সংস্থাটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন ২৭ জন লাইফগার্ডসহ মোট ৩৫ কর্মী।

প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সুগন্ধা, কলাতলী ও লাবণী সৈকত এলাকায় লাল-হলুদ জার্সি পরা লাইফগার্ডরা উদ্ধার সরঞ্জাম নিয়ে সাগরে নামতেন এবং পর্যটকদের সতর্ক করতেন। তবে চলতি মাস শেষ হলেই চিরচেনা এই দৃশ্য আর দেখা যাবে না।

২০১২ সাল থেকে বিদেশি সংস্থা ‘রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউটের (আরএনএলআই)’ অর্থায়নে সি-সেইফ সৈকতে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এ সময়ে লাইফগার্ড কর্মীরা অন্তত ৮১৫ জন পর্যটককে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছেন। শুধু গত সপ্তাহেই সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্ট থেকে ৭ জনকে উদ্ধার করা হয় বলে জানান সংস্থার সিনিয়র কর্মী ও ট্রেইনার মোহাম্মদ ওসমান।

সংস্থার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “গত বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। পরে আরও তিন মাসের জন্য সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। কিন্তু নতুন কোনো অর্থায়ন না হওয়ায় এ মাসেই সেবা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।”

লাইফগার্ড হিসেবে কাজ করা নাইক্ষ্যংছড়ির জয়নাল আবেদীন বলেন, “প্রশিক্ষণ নিয়ে এক যুগ ধরে এই কাজ করছি। এ পর্যন্ত ৯৮ পর্যটকের প্রাণ বাঁচিয়েছি। এখন আমাদের জীবনটাই অনিশ্চয়তায় পড়ে গেল।” একইভাবে বান্দরবানের লামার আকরাম ত্রিপুরা বলেন, “২০ হাজার টাকা বেতনে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হতো। চাকরি চলে গেলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।”

এদিকে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির তত্ত্বাবধায়ক ও এডিএম মো. শাহিদুল আলম জানান, বিষয়টি পর্যটন মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে হোটেল মালিকদের অর্থায়নে সেবা চালু রাখার জন্য। তবে কক্সবাজার হোটেল ও গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, “হোটেলগুলো মাসে ১৪–১৫ লাখ টাকা জোগান দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।”

ট্যুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার রিজিওনের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, “লাইফগার্ড না থাকলে কত পর্যটক প্রাণ হারাতেন তা কল্পনা করা কঠিন। অক্টোবর থেকে লাইফগার্ড না থাকলে পরিস্থিতি কেমন হবে সেটাই বড় দুশ্চিন্তার বিষয়।”

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, “পর্যটনের অনুষঙ্গ হিসেবে লাইফগার্ড অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এখন সরকারি বা হোটেল মালিকদের উদ্যোগে এটি চালু রাখা জরুরি।”

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত