বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “বিগত ১৫/১৬ বছর আমরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। স্বৈরাচার দেশটাকে কোথায় নিয়ে গেছে তা আপনারা জানেন। আমাদের নেতাকর্মীরা হত্যা, গুম, খুনের শিকার হয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ২০০৮ সালের তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে, ওয়ান ইলেভেনের মাধ্যমে দেশে স্বৈরাচার জেঁকে বসেছিল। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ না হই, আমরা গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো যদি ঐক্যবদ্ধ না হই, তাহলে আগামী দিনে গুপ্ত স্বৈরাচারের আবির্ভাব হতে পারে। জনগণ যেভাবে চায়, আমাদের সেভাবে চলতে হবে।”
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা নগরীর টাউন হল মাঠে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, “একটি কথা—সবার আগে বাংলাদেশ। এটিই আমাদের শুরু, এটাই আমাদের শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ। হাতকড়া পরা অবস্থায় হাসপাতালে মারা গিয়েছে, জেলের ভেতরে মারা গিয়েছে, হাজারও নেতাকর্মীকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে। আজ স্বৈরাচারের পতন হয়েছে, স্বৈরাচার দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে। এখন হচ্ছে সামনে দেশ গঠন, দেশ পুনর্গঠন। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ গড়তে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
তিনি বলেন, “আজকের এই সম্মেলনে একটি মূল প্রতিপাদ্য থাকতে হবে—সেটি হচ্ছে ঐক্য, জনগণ এবং দেশ পুনর্গঠন। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ হচ্ছে আপনার-আমার সবার ঘর। এই ঘরে ডাকাত পড়েছিল গত ১৫/১৬ বছর যাবত। সেই ডাকাতকে জনগণ বিতাড়িত করেছে। এখন আমাদের ঘর, আমাদের দেশ পুনর্গঠন করতে হবে।”
সম্মেলনের প্রধান বক্তা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এই দেশ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে যে পরিমাণ ঋণ হয়েছে, সেই টাকা দিয়ে ৪০টি পদ্মাসেতু নির্মাণ করা যেত। ব্যাংক খাত এখন ৫ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণে জর্জরিত। আওয়ামী লীগের ইতিহাস লুটপাটের ইতিহাস। জুলাই অভ্যুত্থানে ১,৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে মানুষ মারা হয়েছে, ২০ হাজার মানুষকে পঙ্গু করা হয়েছে। এই বিষয়টি আমরা যেন ভুলে না যাই। এখনও আমরা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি—সংস্কারের সংগ্রাম, বিচারের সংগ্রাম।”
তিনি বলেন, “প্রত্যেকটি অপরাধের বিচার হবে, তবে এটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এজন্য নির্বাচন প্রলম্বিত হতে পারে না। আজ যারা সংস্কারের কথা বলে, তারা কি জানে ভিশন ২০৩০ এর কথা, ৩১ দফার কথা? বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক মহাকাব্যের নাম ৩১ দফা। বিএনপির ইতিহাস সংস্কারের ইতিহাস। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন হয়েছে দিল্লিতে। তাদের সমাপ্তিও হবে সেখানেই। বিচার শুরু হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো হবে।”
সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সাবেক এমপি মনিরুল হক চৌধুরী ও আমিন উর-রশিদ ইয়াছিন, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুঁইয়া, শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকারিয়া তাহের সুমন এবং সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম। দীর্ঘ ১৬ বছর পর অনুষ্ঠিত দক্ষিণ জেলা বিএনপির এই সম্মেলনে একাধিক প্রার্থী না থাকায় জাকারিয়া তাহের সুমনকে সভাপতি ও আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আগামী সপ্তাহে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে বলে সম্মেলনে জানানো হয়।


