বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

৫ আগস্ট 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস'

জুলাই ন্যায় ও সাম্যভিত্তিক, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছে : ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক

‌‌অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “জুলাই আমাদের নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে—একটি ন্যায় ও সাম্যভিত্তিক, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন । হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ আমাদের যে রাষ্ট্র সংস্কারের ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে, তা যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে।”

আজ ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, “আজকের দিনটি (৫ আগস্ট) বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন। এক বছর আগে এই দিনে চূড়ান্ত রূপ নেয় জুলাই গণঅভ্যুত্থান। দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। এই ঐতিহাসিক অর্জন দেশের আপামর জনতার মুখবন্ধ আন্দোলনের ফসল। আমি তাদের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “পতিত স্বৈরাচার ও তার স্বার্থলোভী গোষ্ঠী এখনো দেশকে ব্যর্থ করতে চক্রান্তে লিপ্ত। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করতে হবে। আসুন, আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে আর কোনো স্বৈরাচারের ঠাঁই থাকবে না।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজ আমি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছি সেই সব সাহসী তরুণ, শ্রমিক, দিনমজুর ও পেশাজীবীদের, যারা ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমি স্মরণ করি আহত ও পঙ্গু হয়ে যাওয়া সকল জুলাই যোদ্ধাকে, যারা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, যন্ত্রণায় নিঃশেষ হয়েছেন। জাতি তাদের অবদান কখনো ভোলে না।”

তিনি বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারমুক্ত একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি খাতে সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।”

তিনি জানান, “জুলাই গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। আহতদের পুনর্বাসন ও শহীদদের স্মৃতি রক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।”

শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ড. ইউনূস বলেন, “গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক ও নির্বাচন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধান এবং নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা জনগণের কাছে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব হস্তান্তরের পথে অগ্রসর হচ্ছি।”

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত