কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স ৪ মাস ১৮ দিন পর খোলা হয়েছে। মসজিদের ১০টি দানবাক্স ও ৩টি সিন্দুক থেকে পাওয়া গেছে ৩২ বস্তা টাকা। এখন চলছে গণনার কাজ।
শনিবার সকাল ৭টায় দানবাক্সগুলো খোলা হয় এবং মসজিদের দ্বিতীয় তলায় টাকা ঢেলে সকাল ৯টায় গণনা শুরু হয়। গণনার সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী।
গণনা কাজে অংশ নিচ্ছেন ৩৪০ জন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, জেলা প্রশাসনের ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৩৩ জন শিক্ষক ও স্টাফ, ৯ জন সেনা সদস্য, ৩০ জন পুলিশ সদস্য, ৫ জন আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য, ১০ জন আনসার সদস্য এবং ১০০ জন ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারী। দিনব্যাপী গণনা শেষে সন্ধ্যায় মোট অর্থের পরিমাণ জানা যাবে।
দেশি মুদ্রার পাশাপাশি মিলেছে স্বর্ণালংকার ও বিদেশি মুদ্রা। প্রতিবারের মতো এবারও দানবাক্সে পাওয়া চিঠি নিয়ে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। এসব চিঠিতে মানুষ তাদের জীবনের নানা আশা-আকাঙ্ক্ষা, বেদনা, উন্নতির প্রার্থনা, চাকরির প্রত্যাশা, রোগমুক্তির আকুতি বা পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য প্রার্থনা জানায়।
এর আগে গত ১২ এপ্রিল দানবাক্স খোলা হলে পাওয়া গিয়েছিল ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা। বর্তমানে পাগলা মসজিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দানের পরিমাণ ৯১ কোটি টাকারও বেশি বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান।
গত ৪ জুলাই দেশ ও দেশের বাইরে থেকে দান করার জন্য পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের অনলাইন ডোনেশন ওয়েবসাইট চালু হয়েছে। দেশের বাইরে থেকেও দান করার সুযোগ করে দিতে এবং প্রতারক চক্রের প্রতারণা ঠেকাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


