প্রায় তিন যুগ পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন। আগামী ১২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভোটের মাধ্যমে ২৮টি পদে তাদের প্রতিনিধিদের নির্বাচন করবেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশোধিত গঠনতন্ত্র প্রকাশ করেছে এবং ভোটের পূর্ণাঙ্গ তফসিলও ঘোষণা করেছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৬ সালে। প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭০ সালে প্রথমবারের মতো চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর যথাক্রমে ১৯৭২, ১৯৭৪, ১৯৭৯, ১৯৮১ এবং সর্বশেষ ১৯৯০ সালে নির্বাচন হয়। মোট ছয়বার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ গঠিত হলেও দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে আর কোনো নির্বাচন হয়নি। ১৯৯০ সালের পর থেকে ছাত্ররাজনীতির সংঘাত, প্রশাসনিক জটিলতা, গঠনতন্ত্র নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং নীতিগত অসঙ্গতির কারণে একাধিকবার আলোচনা হলেও নির্বাচন আর অনুষ্ঠিত হয়নি। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের দাবিতে চাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
প্রথম নির্বাচনে ১৯৭০ সালে ভিপি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ ইব্রাহিম এবং জিএস ছিলেন মোহাম্মদ আব্দুর রাব। ১৯৭২ সালের নির্বাচনে ভিপি ছিলেন শামসুজ্জামান হিরা এবং জিএস ছিলেন মাহমুদুর রহমান মান্না। ১৯৭৪ সালের নির্বাচনে ভিপি হন এস এম ফজলুল হক এবং জিএস ছিলেন গোলাম জিলানী চৌধুরী। ১৯৭৯ সালে ভিপি হন মজহারুল হক শাহ চৌধুরী এবং জিএস ছিলেন জামির চৌধুরী। ১৯৮১ সালের নির্বাচনে ভিপি ছিলেন যাসিম উদ্দিন সরকার এবং জিএস হন আব্দুল গফ্ফার। সর্বশেষ ১৯৯০ সালের নির্বাচনে ভিপি হন নাজিম উদ্দিন এবং জিএস পদে নির্বাচিত হন আজিম উদ্দিন। ফলে ছয়বারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে ছাত্র শিবির, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন তাদের প্রভাব বিস্তার করেছে।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গঠনতন্ত্র সংশোধন করে নতুন কিছু পদ সংযোজন করেছে এবং কিছু পদ বাতিল করেছে। সহ-সমাজসেবা, সহ-মানবাধিকার, সহ-গবেষণা, সহ-আইসিটি ও সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক পদ বাদ দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে চারটি নতুন সম্পাদক পদ—সমাজসেবা ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক, আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক এবং ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। ফলে মোট পদ অপরিবর্তিত থাকছে ২৮টি। পাশাপাশি হল সংসদ থেকেও সব সহ-সম্পাদক পদ বাদ দেওয়া হয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হবে, যা চলবে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে। যাচাই-বাছাই হবে ১৮ সেপ্টেম্বর, প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হবে ২১ সেপ্টেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৫ সেপ্টেম্বর। এরপর ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।
চাকসুর নির্বাচন ঘিরে ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ভোটের মাধ্যমে ছাত্র সংসদ পুনর্গঠনের সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীরা বলছেন, এটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়, বরং সামগ্রিক ছাত্ররাজনীতির জন্যও ইতিবাচক দিক নির্দেশনা হয়ে আসবে।


