চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল অংশ নেবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এবারের নির্বাচনে ছাত্রদল অংশগ্রহণ নাও করতে পারে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ক্যাম্পাসজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডাকসু ও জাকসুর সর্বশেষ নির্বাচনে ছাত্রদলের ভরাডুবিই তাদের পিছু হটার অন্যতম কারণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) উভয় নির্বাচনে ইসলামী ছাত্র শিবির ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে। অন্যদিকে, ছাত্রদল সেখানে আশানুরূপ ফলাফল করতে ব্যর্থ হয়। বিশেষ করে জাকসুতে ছাত্রদলের ভরাডুবি এবং শিবিরের ভূমিধস বিজয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও ভাঙনকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে দেয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ইসলামী ছাত্র শিবির শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। তাদের সাংগঠনিক দক্ষতা, সক্রিয় মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম, ভোটারদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার এবং সুসংগঠিত নেতৃত্ব তাদের অবস্থানকে আরও মজবুত করেছে। এর বিপরীতে ছাত্রদল বহুদিন ধরেই সাংগঠনিক দুর্বলতায় ভুগছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল, মাঠপর্যায়ে দুর্বল উপস্থিতি এবং সক্রিয় নেতৃত্বের অভাবে ছাত্রদল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলতে পারেনি।
ফলে চাকসু নির্বাচনে শিবিরের প্রভাব ও আধিপত্য ছাত্রদলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসে আলোচনা হচ্ছে, ছাত্রদল এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে নিশ্চিত পরাজয়ের মুখোমুখি হবে। আর সে কারণেই তারা হয়তো আগে থেকেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কৌশল নিয়েছে।
ছাত্ররাজনীতিতে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন, চাকসু নির্বাচন থেকে ছাত্রদলের সরে দাঁড়ানো হলে তাদের সংগঠন আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার ও ক্যাম্পাসে অবস্থান ধরে রাখার ক্ষেত্রেও এটি একটি নেতিবাচক বার্তা বহন করবে। অন্যদিকে, ইসলামী ছাত্র শিবিরের শক্ত অবস্থান এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ নির্বাচনী সমীকরণকে এককেন্দ্রিক করে তুলতে পারে।
চাকসু নির্বাচন ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতিতে যখন নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে, তখন ছাত্রদলের সম্ভাব্য সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। এতে করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের উপস্থিতি আরও ক্ষীণ হয়ে যাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যাম্পাস রাজনীতিতে তাদের অবস্থান প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।


